সংবাদদাতা কালিয়াচক: জমি দখলকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে গণ্ডগোল। যার জেরে জখম হলেন তিনজন। ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকদেবপুরে।
শুকদেবপুরের বাসিন্দা সুরেন মণ্ডলের তিন বিঘা জমি রয়েছে। তাঁর দুই ছেলে বিশ্বনাথ এবং পলাশ। দু’জনেই ওই জমিতে আবাদ করেন। জমিতে ধান লাগানো নিয়েই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। বিশ্বনাথ এবারে দু’বিঘা জমিতে একাই ধান লাগাতে চেয়েছিলেন। পলাশকে এক বিঘা জমিতে আবাদ করতে দেওয়া হয়। এতে প্রতিবাদ জানান পলাশ। দু’দিন ধরে এনিয়ে দু’ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে পলাশ জমিতে ধান লাগাতে গেলে বাঁধা দেন বিশ্বনাথ। সে থেকেই শুরু হয় বচসা। তা গড়ায় হাতাহাতিতে।
খবর পেয়ে জমিতে যান পলাশ ও বিশ্বনাথের স্ত্রী। এরপরেই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। অস্ত্রের কোপে বিশ্বনাথের স্ত্রী রিনা মণ্ডলের মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রাই জখমকে উদ্ধার করে কুম্ভিরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। রিনার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে। বিশ্বনাথ এবং পলাশও জখম হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বৈষ্ণবনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
পলাশ জানিয়েছেন, বাবার নামে তিনবিঘা ফসলি জমি রয়েছে। তাঁরা দুই ভাই সেখানে অর্ধেক অর্ধেক করে চাষ করেন। পলাশ প্রতিবছরই দেড়বিঘে জমিতে চাষ করেন। কিন্তু এবারে তাঁর দাদা একাই দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করবেন বলে জানান। পলাশ তাতে রাজি হননি।
পলাশের অভিযোগ, আজ সকালে জমিতে কাজ করতে গেলে দাদা আমাকে মারধর করে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্বনাথ। তাঁর বক্তব্য, আমি ধান চাষ করতে গিয়েছিলাম। সেই সময় আমার ভাই আমাকে এসে গালিগালাজ করে। আমি তাতে বাধা দিয়েছিলাম। এরপরেই সে আমাকে মারধর করে। আমার স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কোপ মারা হয়। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিস।