সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুর শহরবাসীর বাড়িতে ঢুকল পুনর্ভবার জল। গুরিয়াপাড়া এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয় চাষের জমি। সোমবার সকাল থেকেই গঙ্গারামপুর মহকুমার দুই প্রধান নদী পুনর্ভবা ও টাঙ্গনের জল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
বন্যা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ব্লক প্রশাসন ও সেচ দপ্তর বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছিল মহকুমা জুড়ে। সোমবার ভোররাতে বিপত্তি হয় গঙ্গারামপুর ব্লকের ২/১ বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরিয়াপাড়া এলাকায়। পুনর্ভবা নদীর জলের চাপ বাড়তেই গুরিয়াপাড়া এলাকার বাঁধ ভেঙে পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি জলমগ্ন হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। বেলবাড়ি এলাকায় এখনও পর্যন্ত বাসিন্দাদের বাড়িতে জল ঢোকেনি। তবে, গ্রামের বাসিন্দাদের সচেতন করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে বেলবাড়ি, নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হাইস্কুল ও প্রাইমারি স্কুলে ফ্লাড সেন্টার করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
গঙ্গারামপুরের বিডিও অর্পিতা ঘোষাল বলেন, পুনর্ভবা নদীর জল বাড়তেই আমরা শুকদেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও বেলবাড়ি এলাকায় সেচ দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ নজর রাখছিলাম। এবার পুনর্ভবার জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চাপ বেড়েছে। বাঁধের নীচ দিয়ে জল চুইয়ে বাঁধ ভেঙে যায়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যে জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে, সেখানে চাষের জমি রয়েছে। লোকালয়ে জল ঢোকার আগেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পরিস্থিতি জটিল না হলেও দু’টি পঞ্চায়েত এলাকায় স্কুলে ফ্লাড সেন্টার ও ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখছি। দিনরাত ব্লকের তরফে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে নদীর জল বাড়ায় একই জায়গায় বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবার সেখানেই বাঁধ ভেঙে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি অংশ। সেচ দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জল আটকাতে কাজ শুরু করে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যতদিন পর্যন্ত কংক্রিটের বাঁধ না হচ্ছে, এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই মিলবে না।
জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় কুমার বলেন, আমাদের দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে যাওয়া বাঁধ কীভাবে সংস্কার করা হবে সেবিষয়ে পরামর্শ দিতেই কাজ শুরু করেছি। নদীর জল চরম বিপদসীমার থেকে অনেকটাই নীচে নামতে শুরু করেছে। জলের চাপ কমলে ভালো করে বাঁধের কাজ করা হবে। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
এদিকে গঙ্গারামপুর শহরের চিত্তরঞ্জনপল্লী, গঙ্গারামপুর থানা, ইন্দ্রনারায়ণপুর, আউট কলোনি এলাকায় পুনর্ভবা নদীর জল বাড়তেই শহরের নিকাশি ড্রেন দিয়ে শহরে উঠে আসতে শুরু করে দিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র। নিজস্ব চিত্র