মালদহে সব্জি, আনাজের দরে পর্যুদস্ত আমজনতা, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান দল
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, মালদহ: বাজারে সব্জি ছুঁলেই ছ্যাঁকা খাচ্ছে আমজনতা। ফলে বাড়ছে ক্ষোভ। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব্জি থেকে আনাজের দর আকাশছোঁয়া। মঙ্গলবার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জেলা প্রশাসনকে বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্জি ও আনাজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ অভিযানকারী দল। পাশাপাশি হিমঘর থেকে আলু বাজারজাত করার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। জেলায় আরও নতুন ছ’টি সুফল বাংলা স্টল ও মাল্টি কোল্ড স্টোরেজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জেলার বাজারগুলিতে আচমকাই সব্জি ও আনাজের লাগামছাড়া দর বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। ইংলিশবাজারের বাসিন্দা দিলীপ সরকার বলেন, গত দু’সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব্জি ও আনাজের দর এতটাই বেড়ে গিয়েছে, সংসার চালানো দায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি। দাম বেড়েছে ক্যাপসিকাম, বিনস, টম্যাটো, পটল, আদা, কাঁচালঙ্কা সহ প্রায় সব সব্জি ও আনাজেরই। ফলে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছে সব্জি কিনতে।
কালিয়াচকের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের কথায়, বাজারে গিয়ে সব্জি, আনাজ কেনা যেন আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছেন।
ছোট ব্যবসায়ী রাকেশ আগরওয়াল বলেন, আগে এক সপ্তাহের সব্জি ও আনাজ একসঙ্গে কিনে রাখতাম। কিন্তু এখন বিনস ৩০০ টাকা কেজি। টম্যাটো ১০০ টাকা। দাম বেড়ে গিয়েছে পটল, ঢেঁড়সের মতো নিত্য ব্যবহৃত সব্জির।
নির্বাচন মিটে যেতেই বাজার দর একলাফে এতটা বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
মালদহের জেলাশাসন নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, ২৪ জুন থেকেই ক্রেতা সুরক্ষা, নিয়ন্ত্রিত বাজার, এনফোর্সমেন্ট সহ বিভিন্ন দপ্তরের আটজন প্রতিনিধি নিয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে টিম তৈরি হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন বাজারে হানা দিচ্ছেন। সব্জি ও আনাজ লাগামছাড়া দরে বিক্রি করলে পদক্ষেপ করা হবে। আগে এই মরশুমে হিমঘর থেকে ১৭ শতাংশ আলু বের করা হত। হিমঘর মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। জেলায় এই মুহূর্তে ইংলিশবাজার ও চাঁচলে দু’টি সুফল বাংলা বিপণি রয়েছে। সেটা বাড়িয়ে আট করার চেষ্টা চলছে। তাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম দামে মিলবে সব্জি ও আনাজ। জেলায় মাল্টি কোল্ড স্টোরেজ তৈরিরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।