মুজনাই নদীতে তলিয়ে যেতে পারে ঘর, ভয়ে রাত জাগছেন বাসিন্দারা
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, ফালাকাটা: বছরের পর বছর ধরে মুজনাই নদীর পাড় ভাঙছে। এর জেরে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে বসেছে ফালাকাটা ব্লক এবং মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিতে ফের নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। একটু একটু নদী গতিপথ বদল করায় ভিটেমাটি হারানোর মুখে কয়েকটি পরিবার। বোল্ডারের বাঁধ না থাকায় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে চলেছে প্রায় ১০টি বাড়ি। ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর-১ গ্রামপঞ্চায়তের দলগাঁও, দেওগাঁও গ্রামপঞ্চায়তের ঝাঁর বেলতলি, পশ্চিম দেওগাঁও নবনগর এলাকায় মুজনাই নদী বহু কৃষিজমি গিলেছে। এর থেকে নিস্তার পেতে সেখানে বোল্ডারের বাঁধ তৈরির দাবি উঠেছে। মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি, কেনাপারা, উত্তর রাঙালিবাজনাতেও একই রকম ছবি। তাই রাতে ভাঙনের আতঙ্কে জেগে থাকছেন মুজনাই পাড়ের বাসিন্দারা।
ফালাকাটা ব্লকের উত্তর দেওগাঁওয়ের নসিব ওরাওঁ বলেন, দশ বছরে আমার আট বিঘা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ খয়েরবাড়ির নুর ইসলাম, সেরাজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেকের ১০ থেকে ১২ বিঘা কৃষিজমি নদী গিলেছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বহুবার পাড় ভাঙনের ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু, বাঁধ বসেনি।
লাইতু ওরাওঁ, সঞ্জীব ওরাওঁ, হরিমোহন রায়, নালু রায়দের মত অনেকের চাষের জমি মুজনাইয়ের গর্ভে চলে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সেখানে পাকাপোক্ত বাঁধ তৈরির দাবি তুলেছেন।
অপরদিকে, মুজনাইয়ের ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর মুখে দক্ষিণ খয়েরবাড়ির রবিউল ইসলাম, তাজিরুল হক, মনতাজুল হক, সইদুল ইসলামরা। একইভাবে মুন্ডাপাড়ায় রামসিং মুন্ডা, দলসিং মুন্ডা সহ ১০-১২টি পরিবার একই সমস্যায় পড়েছেন। এলাকার প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা বলছেন, পাড়বাঁধ তৈরি করতে বিপুল টাকা প্রয়োজন। তাই জেলা পরিষদকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও জেলা পরিষদের সভাধিপতি স্নিধা শৈব বলেন, মুজনাই নদীর পাড় বাঁধের প্রস্তাব উপর মহলে পাঠানো হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কীভাবে ভাঙন রোখা যেতে পারে সেই ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছি। নবনগরে ৮০০ মিটার বাঁধের কাজ চলছে। নিজস্ব চিত্র