• ক্যানালের উপর সেতু তৈরির দাবিতে বিক্ষোভ তুলসীহাটায়
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: ৪০ বছরেও সেতুর দাবি পূরণ হয়নি। বর্ষাকালে ক্যানালে জল বাড়লে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকা। যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। পঞ্চায়েতের তৈরি অস্থায়ী সাঁকোও জলে ডুবে যায়। অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে ঢুকতে পারে না। রাস্তা না থাকায় নাকি গ্রামের ছেলেমেয়েদের বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট পারো গ্রামের বাসিন্দাদের। সেতুর দাবিতে মঙ্গলবার এলাকায় বিক্ষোভ দেখালেন শতাধিক গ্রামবাসী। ঘণ্টা খানেক ধরে চলে বিক্ষোভ। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ এর বিডিও সৌমেন মণ্ডল বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।


    ছোট পারো ও ভাগ বড়োল গ্রামের মাঝে রয়েছে পিপলমুণি ক্যানাল। বছরের অন্য সময় ক্যানেলে তেমন জল থাকে না। তখন ক্যানালের উপর অস্থায়ীভাবে মাটির রাস্তা তৈরি করে যাতায়াত করেন এলাকাবাসী। কিন্তু বর্ষাকালে ক্যানাল জলে পরিপূর্ণ হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জলমগ্ন হয়ে পড়ে এলাকা। সেতু না থাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।


    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েও সেতু হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে সাঁকো তৈরি করে দিয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, তা যথেষ্ট নয়। বর্ষায় ক্যানালে জল বাড়লে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দা বাসারাত আলি বলেন, এই ক্যানালের উপর দিয়ে প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। বর্ষার সময় সেই ক্যানাল জলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। চার মাস ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের। কলার ভেলা বানিয়ে মাঠের ফসল ঘরে আনতে হয়। বেহাল রাস্তার কারণে এলাকার ছেলেমেয়েদের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। 


    আর এক বাসিন্দা হামেদ হোসেনদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন থেকে সেতুর দাবিতে পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে ঘুরছি। আশ্বাস মেলে। কিন্তু সেতু আর হয় না। এলাকার আব্দুল কালাম বলছেন, পঞ্চায়েত থেকে সাঁকো তৈরি করে দিলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভেঙে যায়। এখন বাইক বা সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা তো দূর, হেঁটেও পারাপার করা যায় না। তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমা খাতুন বলেন, পঞ্চায়েত থেকে এত বড় কাজ করা সম্ভব নয়। ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।
  • Link to this news (বর্তমান)