সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে রোগীকে ভুল রক্ত দেওয়ার ঘটনায় গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা আটকাতে বৈঠক ডেকেছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর, হাসপাতাল সুপারদের ডেকে রক্ত দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবনের আত্রেয়ী হলে বৈঠকে ভুল রক্ত দেওয়ার ঘটনার রিপোর্ট পেশ করা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, গাফিলতি স্পষ্ট। বৈঠকে জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস স্বাস্থ্যকর্তাদের সতর্ক করেছেন। গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর। একই নামের ক্ষেত্রে এমন ভুল যাতে আর না হয়, সেই ব্যাপারে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান বিজিন কৃষ্ণা বলেন, রক্ত দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। রোগীর একই নামের ক্ষেত্রে যাতে এমন ভুল না হয়, সকলকেই সতর্ক করা হয়। গাইডলাইন মেনে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। অভিযুক্ত নার্সকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে শোকজও করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগের কথায়, ওই ঘটনায় হাসপাতালও তদন্ত করছে। এক নার্সকে শোকজ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, একই নামের যদি একাধিক রোগী থাকেন, সেক্ষেত্রে রক্ত দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ তথ্য দেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রোগীর গ্রুপ, রেজিস্ট্রেশন, বয়স দেখার সঙ্গে রক্ত দেওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। শুধু নার্স নয়, চিকিৎসকদেরও এব্যাপারে সক্রিয় হতে বলা হয়। এদিনের বৈঠকের পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তা সহ বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর হাসপাতালের সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ২৭ তারিখে পতিরামের নিচাবন্দরের সাবিত্রী দাস ফিমেল মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর ‘বি’ পজিটিভ গ্রুপ হলেও রক্তের প্রয়োজন ছিল না। পরের দিন তাঁকে ‘এ’ পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়। ওই ওয়ার্ডে একই নামের ক্যান্সার আক্রান্ত ‘এ’ পজিটিভ রক্ত বাহক ভর্তি ছিলেন। তাঁর পরিবর্তে সাবিত্রীকে রক্ত দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কিডনির ক্ষতি হওয়ায় ডায়ালিসিস করতে হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত কলকাতায় রেফার করা হয়েছে তাঁকে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) হারিস রশিদের নেতৃত্বে কমিটি গড়ে সেই ঘটনার তদন্ত চলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আলাদা করে তদন্তে নামে।