• হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি, পরিষেবা শিকেয়
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, পতিরাম: সোমবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছিল। বকেয়া বেতনের দাবিতে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে মঙ্গলবারও চলল অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতি। এর জেরে পরিষেবা লাটে উঠেছে। হাসপাতালের পুরনো তিনতলা ভবনে সাফাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। লন্ড্রির কর্মীরাও বেডের চাদর, কাপড় ধুচ্ছেন না। সকাল থেকে মাতৃমঙ্গল, বহির্বিভাগ, ব্লাড ব্যাঙ্ক, সিসিইউ এর মতো বিভাগে কর্মীরা কাজ করছেন না। কর্মীদের দাবি, বেতন না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাসফোর অ্যান্ড হরিজন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। অস্থায়ী কর্মী পুলক তপাদার বলেন, বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করলাম। বেতন না পেলে আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব। 


    জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা আবার এজেন্সির ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, এজেন্সির বিলে কয়েকমাস আগে কিছু অনিয়ম ধরা হয়েছিল। ট্রেজারি অফিসার ওই বিল সংশোধন করতে হাসপাতাল সুপারকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের বিল আটকে রেখে এজেন্সি ঠিক কাজ করছে না। 


    মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাসও বলেছেন, ট্রেজারি থেকে বিল পাশ না হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।


    আট মাস বেতন বন্ধ হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীদের। বার বার দাবি জানিয়েও বকেয়া না পেয়ে কাজ বন্ধ করেছেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। তাঁদের উপরেই হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিছন্নতার বিষয়টি নির্ভর করে। সোমবার তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বহু পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। সিসিইউ, এসএনসিইউ, মেডিসিন বিভাগ, ব্লাড ব্যাঙ্ক, বহির্বিভাগ সহ নানা বিভাগে প্রায় ১১৬ জন কর্মী কাজ করেন। কার্যত সব বিভাগেই কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। পুরনো তিনতলা ভবনে রোগীদের লিফট চালানোর জন্যও কর্মী নেই। ভোগান্তি রুখতে হাসপাতালের  এক গ্রুপ ’ডি’ স্টাফকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


    কর্মীদের অভিযোগ, গত আট মাস ধরে তাঁদের বেতন আটকে রেখেছে বালুরঘাট ট্রেজারি অফিস। এজেন্সির সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ট্রেজারি অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।


    সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ বলেন, সমস্ত সরকারি প্রক্রিয়া মেনেই আমরা ট্রেজারিতে বিল পাঠাই। কিন্তু ট্রেজারি অফিসার বিল পাশ করছেন না। একইভাবে আগে বিল পাশ হয়েছে। 


    জেলার ট্রেজারি অফিসার চিন্ময় হালদারের কথায়, আমার মন্তব্য বিলের সঙ্গেই লেখা আছে। সমস্যার কারণও সেখানে রয়েছে। বিষয়টি জেলাপ্রশাসন দেখছে। 


    দায় ঠেলাঠেলি প্রসঙ্গে এজেন্সির সুপারভাইজার তন্ময় রায়ের দাবি, গত আট মাস নিয়মিত বিল পাচ্ছি না। একাধিকবার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানিয়েছি। প্রায় আড়াই কোটি টাকা বকেয়া। বেতন না পেয়ে কর্মীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন।


    একমাস আগেও অস্থায়ী কর্মীরা কর্মবিরতির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বেতন মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর কর্মবিরতি রুখে দেয়। এবার জটিলতা কবে কাটবে, উত্তর নেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)