• পরিবহণের পর মুখ্যমন্ত্রীর তোপের মুখে মৎস্য দপ্তর মাছ, সব্জির চাহিদা মেটাতে উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে পরিবহণ দপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বন্যার বিষয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার বৈঠক করলেন জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধির মোকাবিলা নিয়ে। এই বিশেষ বৈঠকে মৎস্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, মৎস্য দপ্তর কী করছে? মনে হচ্ছে, দপ্তরটি দেখার কেউ নেই! কৃষিদপ্তরের ৭০টি পুকুরে বড় মাছ চাষ করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেটা কী অবস্থায় আছে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।


    এরপরই তিনি মন্তব্য করেন, মাছের চারা ছাড়ার সমস্যা হল ১০০টা ছেড়ে ৫ হাজারের দাম নেওয়া হয়! এটা একটা ‘ইনকাম করে খাওয়ার’ জায়গা হয়ে গিয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে। ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পের অধীনে সরকারি উদ্যোগে যেসব পুকুর করা হয়েছে সেখানে অনেক জায়গায় মাছচাষ হয় না। ওইসব পুকুরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উদ্যোগে মাছচাষ শুরু করার জন্য উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন তিনি। তেলাপিয়া বা আমেরিকান কই মাছ খেলে ক্ষতি হয়, এমন যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা কতটা ঠিক, তা আধিকারিকদের কাছে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। ওইসব মাছ খেলে যে কোনও ক্ষতিই হয় না, এটা জানার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই রটনার পিছনে কোনও চক্র রয়েছে। তেলাপিয়া খাওয়া নিরাপদ, এটা আমরা এখন বলব। এই মাছের চাহিদা আছে। 


    এদিনের বৈঠকে সব্জি সংরক্ষণের জন্য বহুমুখী হিমঘর তৈরি করার উদ্যোগ নিতে হর্টিকালচার দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আলু ও পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে কেন সব্জি সংরক্ষণ করা যাবে না? হিমঘরে সব্জি রেখে তা পরে বাজারে আনতে পারলে চাহিদা মিটবে। গরমের মধ্যে যাতে সব্জির চাষ করা যায়, তার জন্য গবেষণা করার কথাও বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পলি হাউসে কিছুটা সব্জিচাষ শুরু হয়েছে। ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে সব্জিচাষে জল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে জলসম্পদ ও সেচদপ্তরকে উদ্যোগ নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 


    বৈঠকে তিনি আরও বলেন, রাজ্যে সরকারি সাহায্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ঩ গোলা করা হয়েছে। বাংলা শস্যবিমা প্রকল্পে চাষিদের বিনামূল্যে বিমার ব্যবস্থা করতে সরকার এখনও পর্যন্ত ৩১৩৩ কোটি  টাকা খরচ করেছে। এবছরও আলুচাষিরা ৩২২ কোটি টাকা  ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। চাষিদের জন্য এত কিছু করার পর কিছু মুনাফাখোরের জন্য কেন সব্জির দাম বাড়বে, সেই প্রশ্ন এদিন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভেন্ডার কামরায় সব্জি বহনে রেল যে বেশি ভাড়া নেয়, তা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ভেন্ডার টিকিটে যাতে ৩০০ কুইন্টল সব্জি আনা যায়, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবে নবান্ন। সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে এসব ক্ষেত্রে রেলের কম লাভ করা উচিত বলেই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (বর্তমান)