• ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় সিআইডি তদন্ত শুরু
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) ভেঙে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় এবার আসরে নামল সিআইডি। টাকা তছরুপ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের যোগসূত্র মিলেছে বলে খবর। তা না হলে এফডির তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। অভিযুক্তদের খোঁজে মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে খবর। 


    বর্ধমানের বিসি রোড এলাকার এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে এক কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার এফডি করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই সেটি ভাঙিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অথচ কর্তৃপক্ষের তরফে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে  জেলা পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারা মামলার গভীরে যেতে পারেনি। এরপরই তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। 


    তারা তদন্তে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে।  কোথা থেকে এই টাকা এল, তার তথ্য নেওয়া হয়। বিভিন্ন খাতে আয় হওয়া অর্থ এফডি করা হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানায়। তদন্তকারীরা জানতে চান অ্যাকাউন্ট কারা দেখভাল করতেন। এই সংক্রান্ত একটি তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন তাঁরা। তদন্তে উঠে আসে টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা বিভাগ রয়েছে। তার মাথায় রয়েছেন এক অফিসার। একইসঙ্গে কবে এফডি করা হয়েছিল এবং কার স্বাক্ষর রয়েছে, এই সংক্রান্ত আরও একাধিক নথি সংগ্রহ করেন অফিসাররা। দেখা যায়, টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। 


    কিন্তু কীভাবে তা উঠে গেল, তার তদন্ত করতে গিয়ে অফিসাররা জেনেছেন, সই জাল করা হয়েছে। এই কাজ করেছেন এফডি দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীরাই। এমনকী টাকা তোলার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনামাটিও জাল করেছে অভিযুক্তরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। টাকা যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, সেগুলি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল কী করে, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টাকা স্থানান্তর করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যাঙ্ক যোগাযোগ করেছিল কি না, তা দেখা হচ্ছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)