লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নিন্দায় ক্ষুব্ধ গরিব মানুষ দূরে সরে গিয়েছে, সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্লেষণ
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভার ভোটে তৃণমূলের বিরাট সমর্থনলাভের পিছনে বিশেষভাবে কাজ করেছে রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির সাফল্য। এই প্রসঙ্গে সবার আগে আসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমনটাই মনে করছে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কিছু পার্টি ইউনিট ও ক্যাডার এই প্রকল্পগুলিকে ‘ঘুষ’, ‘ডোল’ ইত্যাদি বলে আক্রমণ করেছিল। এটা বেশিরভাগ গরিব মানুষ ভালোভাবে নেয়নি, বরং সিপিএম পার্টিকেই তাদের থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে নিচুতলার প্রচারে বিজেপির চেয়ে তৃণমূলকে বেশি আক্রমণ করা হয়েছে, এই বিষয়টিও ভালো চোখে দেখছে না কেন্দ্রীয় কমিটি। তাই ক্যাডারদের শিক্ষিত করার জন্য উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।
২৮ জুন থেকে তিনদিন দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে বাংলার নির্বাচন নিয়ে কাটাছেঁড়া করা হয়। বেশ কিছু সিটে সিপিএমের ভোটবৃদ্ধির জন্য বিজেপি হেরেছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। ভোটের ফল খারাপ হওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলিকে সিপিএমের একাংশ ‘ভিক্ষার দান’, ‘ঘুষ’ বলে আক্রমণ করেছিল। কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, ওই ধরনের প্রকল্পগুলি নিয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার। এবারের ভোটে ১২-১৪ শতাংশ বুথে যে সিপিএমের পোলিং এজেন্ট ছিল না, সেকথাও কবুল করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির এই বিশ্লেষণ থেকে রাজ্য পার্টি কী পদক্ষেপ করছে? রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ‘পার্টি ক্লাস ও পাঠচক্র আমাদের মধ্যে হয়। এটা একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। পার্টি সম্পর্কে নতুন ও পুরনোদের আরও বোঝাতে হবে।’ ওই সদস্যের আরও বক্তব্য, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মত পরিষ্কার করেছে পার্টি। বিরোধিতার প্রশ্ন নেই। অনেক সময় নকল অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়ানো হয়। বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা তো আমরাই শুরু করেছিলাম। রেশনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি হাসপাতাল করতে হবে। তবে এই প্রকল্পগুলিই শেষ কথা নয়, কাজের সুযোগও বাড়াতে হবে।’