নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করতে জোরকদমে প্রস্ততি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। মঞ্চ তৈরি থেকে কর্মীদের আসা-যাওয়ার যাবতীয় বিষয় নিয়ে এখন বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। পুরোদমে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সি। দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কীভাবে সমাবেশকে আরও আকর্ষণীয় ও সফল করা যায়।
তৃণমূলের মেগা কর্মসূচির মধ্যে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থাকে প্রথম স্থানে। শহিদ দিবসের এই কমর্সূচি থেকেই আগামীর রূপরেখা জানিয়ে দেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ—সবটাই ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে খোলা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন তিনি। স্বভাবতই রাজনৈতিক দিক থেকে এই কর্মসূচি তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মমতার নির্দেশে এবার ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন তাঁর ‘বিশ্বস্ত সৈনিক’ তথা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। তিনি প্রস্তুতি নিয়ে তৃণমূল ভবনে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন। তবে প্রস্তুতি পর্বের এপিসেন্টারে রয়েছে সুব্রতবাবুর ভবানীপুরের কার্যালয়। সেখানে তিনি জেলা সভাপতি এবং সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসার জন্য কলকাতার বাইরে রয়েছেন। তবে ক্যাম্যাক স্ট্রিটে তাঁর অফিসের সঙ্গে বক্সির ভবানীপুরের অফিসের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। সমন্বয়ের ভিত্তিতে চলছে একুশের প্রস্তুতি। যেমন, ফ্লেক্স-ব্যানারের ডিজাইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সল্টলেক, গীতাঞ্জলী স্টেডিয়াম, নেতাজি ইন্ডোর, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র সহ একাধিক জায়গায় কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই জায়গাগুলি পরিদর্শন করবেন সুব্রতবাবু। ২১ জুলাই অভিষেক স্বশরীরে নাকি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় হাজির থাকবেন, তা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে কর্মীদের আসা-যাওয়ার জন্য তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব রেলের কাছে ট্রেনের অতিরিক্ত বগির আর্জি জানিয়েছে। এবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ তৈরির দায়িত্বে থাকছে নতুন একটি ডেকরেটর্স সংস্থা। তাদেরও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কীভাবে মঞ্চ তৈরি করতে হবে। মঞ্চে র্যাম্প থাকবে। সেই র্যাম্প দিয়েই মঞ্চে উঠবেন তৃণমূল নেত্রী। মূল মঞ্চে শ’পাঁচেক চেয়ারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশে থাকবে আরও একটি মঞ্চ। তবে এবার ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে আইপ্যাকের ভূমিকা এখনও সদর্থক নয় বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে কোনও যোগদান হচ্ছে বলেও এখনও পর্যন্ত খবর নেই তৃণমূলের অন্দরে।