• কলেজে আসন ভরাতে অধ্যক্ষদের দিয়ে স্কুলে ভিজিটের ভাবনা
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন ভরানোর জন্য ছাত্র আনতে আশপাশের স্কুলগুলিতে যান অধ্যক্ষরা। কলেজের পরিকাঠামো, শিক্ষক এবং উপযোগী কোর্সগুলি নিয়ে ওয়াকিবহাল করুন ছাত্রছাত্রীদের। কোন কোর্সের কী উপকারিতা, তাও বোঝাতে হবে তাদের। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আশা, এর ফলে কলেজে আসন ফাঁকা থাকার সমস্যা কিছুটা হলেও কমতে পারে। 


    ইতিমধ্যেই স্কুলগুলিতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গিয়ে পাঠদান, কেরিয়ার কাউন্সেলিংয়ের রেওয়াজ চালু করেছে শিক্ষাদপ্তর। সেটা আরও বেশি করে ছাত্রদের কলেজে আকৃষ্ট করার জন্য ব্যবহার করতে হবে। পাশের কলেজে যদি একই বিষয়ে বহু ছাত্রছাত্রী থাকেন, তাহলে তাঁর কলেজে পড়ুয়া নেই কেন, সেই জবাবদিহিও দপ্তর চাইতে পারে অধ্যক্ষদের কাছে। 


    ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় পোর্টালে কলেজগুলির মেধাতালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ৫ লক্ষ ৩০ হাজার আবেদনকারী রয়েছেন। ৮ আগস্ট ফের একদফা খুলবে আবেদনের পোর্টাল। তবে, সাড়ে ৯ লক্ষ আসন পূরণ কার্যত অসম্ভবই। ‘বর্তমান’-এ আগেই লেখা হয়েছিল, প্রচুর সংখ্যায় ভিন রাজ্যের ছাত্রছাত্রী এবং বছর দু’য়েকের মধ্যে ড্রপ আউট ছাত্রছাত্রীরা অ্যাডমিশন না নিলে পুরো আসন ভর্তি হবে না। কারণ, সব মিলিয়ে এরাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৮ লক্ষেরও অনেক কম। এই অবস্থায় বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। অর্থাৎ, মপ-আপ রাউন্ডের পরেও যে ছাত্রছাত্রীরা কোথাও ভর্তি হতে পারবেন না, তাঁদের কলেজ পাইয়ে দেবে দপ্তর। সেটাও হবে কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে। এর ফলে পাশের জেলাতেও কোনও কলেজে ফাঁকা আসন থাকলে তা পোর্টালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া জানতে পারবেন। কলেজগুলিও সেরকম ছাত্রছাত্রীর নাগাল পাবেন। সেক্ষেত্রে আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা আরও একটু কমবে বলে আশা দপ্তরের। অধ্যক্ষরাও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।


    যদিও শিক্ষামহলের বক্তব্য, এসব ব্যবস্থাপনা মূল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বদলির মাধ্যমে শিক্ষকদের সুষম বিন্যাস, পরিকাঠামো ভাগাভাগির মতো পদক্ষেপ অবিলম্বে শুরু করতে হবে দপ্তরকে। একটি কলেজে কম পড়ুয়া থাকলে পাশের কলেজ থেকে বাড়তি পড়ুয়া এনে ক্লাসও করানো যেতে পারে। একইভাবে শিক্ষকদেরও পাঠানো যেতে পারে পাশের কলেজে। এ ধরনের ব্যবস্থা খাতায়-কলমে থাকলেও তা সেভাবে কোথাও চালু হয়নি। তার ফলে কোনও কলেজে ক্লাসরুমের বাইরে পড়ুয়া উপচে পড়ে আবার কোথাও ছাত্রের অভাবে শিক্ষককে স্টাফরুমেই কাটাতে হয়। এই পরিস্থিতির বদল চাইছে শিক্ষামহল। 
  • Link to this news (বর্তমান)