• তৃণমূল নেতা খুনের মামলা: রাজ্যের এক মন্ত্রীর ভাইকে ফেরার ঘোষণা
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: একটি খুনের মামলায় কাটোয়া আদালত রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই রহমতুল্লাকে ফেরার (প্রোক্লেমড অফেন্ডার) ঘোষণা করল। রহমতুল্লা তৃণমূলের নেতাও বটে। মঙ্গলকোটের তৃণমূল নেতা শেখ সানাউল্লা ওরফে ডালিম শেখকে খুনের ঘটনায় এই রহমতুল্লা জড়িত বলে অভিযোগ। এই নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। শাসক দলের নেতা হওয়াতেই কি খুনের মামলায় অভিযুক্তকে ধরতে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি গড়িমসি করেছে? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ২০১৭ সালের ১৯ জুন সন্ধ্যায় কাটোয়া-বর্ধমান রোডের পাশে নিগনচটিতে একটি মাছের আড়তে বসে থাকাকালীন খুন হন ডালিম শেখ। পরপর গুলি চালিয়ে শিমুলিয়া-১ অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রস সভাপতির শরীর ঝাঁঝরা করে দেয় দুষ্কৃতীরা। ডালিমের ভাই আসাদুল্লা শেখের অভিযোগ, মন্ত্রীর ভাই রহমতুল্লা এই খুন করিয়েছেন। তাঁর নাম এফআইআরে ছিল। জেলা পুলিসের হাত থেকে সিআইডি  তদন্তভার নেয়। এই ঘটনায়, মন্ত্রীর ভাই রহমতুল্লাকে বাদ দিয়ে মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির পেশ করা দুটি চার্জশিটেই রহস্যজনকভাবে রহমতুল্লার নাম বাদ পড়ে। অথচ, তিনি যে ওই ঘটনায় জড়িত তার তথ্য-প্রমাণ সিআইডির কাছে ছিল। 


    ঘটনার আগে ও পরে ২৫ জন অভিযুক্তের সঙ্গে একাধিকবার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়ায় সকলেই জানায়, রহমতুল্লার কথামতো তারা খুনের ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তারপরেও তাঁকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে অদ্ভুতভাবে নীরব থেকেছে তদন্তকারী সংস্থা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করেন, মন্ত্রীর ভাই হওয়াতেই তাঁকে ধরা হচ্ছে না। শেষপর্যন্ত সিআইডি তাঁকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। এর মাঝে আদালতে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ জমা দিতে না-পারায় ডালিম খুনের মামলায় ২৫ জনকে ‘বেকসুর খালাস’ করে দেয় আদালত।  এরপরই মামলা নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে সিআইডি। রহমতুল্লা চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য উঠেপড়ে লাগে তারা। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।  বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানায়, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  এরপরই রহমতুল্লাকে ফেরার ঘোষণা করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রের খবর। এই কেসের বিস্তারিত তথ্য এবং তাঁর ছবি বিভিন্ন জায়গায় সেঁটে দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি একমাসের মধ্যে আদালত আত্মসমর্পণ না করেন, তবে সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় এই প্রেক্ষিতে আরও একটি  কেস রুজু করবে।
  • Link to this news (বর্তমান)