রাজ্য শিক্ষানীতির সুপারিশে দক্ষিণ কলকাতার ১৩ স্কুল নিয়ে থিয়েটার কর্মশালার উদ্যোগ
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চূড়ান্ত দুষ্টু ছেলেটাও নাটক করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত শৃঙ্খলার পরিচয় দিচ্ছে। যে ছাত্র ক্লাসের পড়া মুখস্থ বলতে পারে না, সে তরতরিয়ে বলে চলেছে ডায়ালগ। যে মেয়েটি ক্লাসে মুখ লুকিয়ে থাকে, স্টেজ-ট্রায়ালে সে’ই সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখছে। ছাত্রছাত্রীরা নাটকে অংশ নিলে অনেকসময়ই তাদের ভিতরের সহজাত শিল্পীসত্তা বেরিয়ে আসে। এটা লক্ষ্য করেছেন শিক্ষকরা। তাই পাঠদানের অংশ হিসেবে থিয়েটারকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মনে তাঁরা। সেই কারণে স্কুলেই থিয়েটারের পাঠ দিতে উদ্যোগী হয়েছে শহরের বেশকিছু স্কুল।
পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে চিরাচরিত পদ্ধতিতে পাঠদানের পাশাপাশি নাটক, পাপেট্রির মতো বিষয়ের সাহায্য নেওয়ার কথা বলা আছে জাতীয় শিক্ষানীতিতে। রাজ্য শিক্ষানীতিও সেই অনুযায়ী বিষয়গুলিতে জোর দিয়েছে। বেসরকারি স্কুলে ড্রামা ক্লাস থাকে। সরকারি স্কুলে আলাদা করে ক্লাস না থাকলেও বার্ষিক অনুষ্ঠানের সময় থিয়েটার চর্চা চলে। তবে, সেটাকে পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির বেশ কম। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘রাজ্য শিশুকিশোর অ্যাকাডেমির নাট্য প্রতিযোগিতায় আমাদের স্কুল দ্বিতীয় হয়েছিল। আমাদের কচিকাঁচাদের দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সবচেয়ে দুষ্টু ছেলেটাও কী সিরিয়াস হয়ে পার্ট করছে! তখনই বুঝি থিয়েটারের গুরুত্ব।’
প্রসঙ্গত, এই স্কুল রাজ্যের ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ পদ্ধতিতে অন্যতম হাব স্কুল। এর অধীনে দক্ষিণ কলকাতার ১২টি স্কুলও রয়েছে। তাদের নিয়েই শনিবার আয়োজিত হতে চলেছে থিয়েটার কর্মশালা। মোট ১৫০ জন পড়ুয়া এতে অংশ নেবে। স্পোকস স্কুলগুলির প্রতিটি থেকে ১০ জন এবং হাব স্কুলের ৩০ জন পড়ুয়া এতে অংশ নেবে। বিষয় হল শৃঙ্খলা, মনোযোগ সহকারে নিরীক্ষণ, কল্পনাশক্তি এবং আত্মবিশ্বাস। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে ঢোলা প্যান্ট এবং গেঞ্জি পরে আসতে বলা হয়েছে। সঙ্গে আনতে হবে একটি গামছা বা তোয়ালে, খাতা পেন, পেন্সিল, একটি জলের বোতল এবং মোমরং। নাটকেও সেগুলি ব্যবহার হতে পারে। স্কুলগুলি আরও কিছু প্রপসের ব্যবস্থা করে রাখবে। এই নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ তুঙ্গে।