• লোকসভায় ভরাডুবির ময়নাতদন্তে ১৬ জুলাই পর্যালোচনা বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে  ময়নাতদন্ত করবে বঙ্গ বিজেপি। সেই লক্ষ্যে বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক ডাকল গেরুয়া পার্টি। ১৬ জুলাই সল্টলেক অফিসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, গতবারের তুলনায় বাংলায় সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে হাফ ডজন আসন পেয়েছে বিজেপি। ১৮ থেকে এমপি সংখ্যা কমে হয়েছে ১২। যেখানে নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ—পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন জেতার দাবি করেছিলেন। বিধানসভা থেকে লোকসভা বঙ্গ বিজেপির ব্যর্থতার ধারাবাহিকতার রহস্য খুঁজতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদিও বিজেপি নেতাদের দাবি, লোক দেখানো এই বৈঠক। দিল্লির নির্দেশে প্রতিটি রাজ্যকে লোকসভা ভোটে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। তাই এই আয়োজন। এখানে দলের ভরাডুবির পিছনে খোদ পার্টির শীর্ষ একাংশ জড়িত। তাঁরাই পার্টির ব্যর্থতার কারণ সংবলিত রিপোর্ট তৈরি করছে। গোটা প্রক্রিয়াকেই প্রহসন বলে আখ্যা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সেই বৈঠক শেষ হতেই পরদিন অর্থাৎ ১৭ জুলাই বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। দুপুরে মহাভোজসহ সায়েন্স সিটি ভাড়া করে গোটা রাজ্য থেকে প্রায় হাজার খানেক নেতাদের ডেকে রাজ্য কমিটি বর্ধিত আকার দেওয়া হয়েছে।


    এই প্রসঙ্গে দলের এক পদাধিকারী বলেন, ১৬ জুলাইয়ের বৈঠকে সমস্ত সাংগঠনিক জেলার সভাপতিসহ লোকসভার কনভেনার, ইনচার্জদের তলব করা হয়েছে। ২০২১ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির কোনও কারণ অনুসন্ধান হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে বিজেপির উপর থেকে নিচুতলার একাংশ নেতা ক্ষোভ-অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন। কিন্তু গোড়ার গলদটা ঠিক কোথায়, তা জানা যায়নি। আদি নেতা-কর্মীদের বসিয়ে রেখে দলবদলু কিংবা নব্য বিজেপিদের মাথায় তুলে রাখা হয়েছিল। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি দলের বাংলা ইউনিট। একইভাবে এবারের লোকসভা ভোটেও একাধিক আসনে বাইরে থেকে প্রার্থী এনে প্রতীক বিলি করা হয়েছে। দিলীপ ঘোষ, দেবশ্রী চৌধুরীর মতো বলিষ্ঠ নেতা-নেত্রীদের আসন বদল করে কার্যত হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


    ওই নেতার কথায়, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করেছে কাউকে বিশেষ বলার সুযোগ দেওয়া হবে না। কারণ, মুখ খুললেই অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে আসবে। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রচারে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন রাজ্য বিজেপির কয়েকজন। অনেকে আবার তৃণমূলের সঙ্গে সখ্য রেখে দলীয় প্রার্থীর পিঠে ছুরি মেরেছে। পর্যালোচনা বৈঠকে এসব বিষয় উঠলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার নেবে। তাই ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের বৈঠকে আমন্ত্রিতদের কথা বলার বিশেষ সুযোগ থাকবে না। অভিযোগ, দলের অনেক নেতা-কর্মীকেই ফোন করে কোনও কথা না-বলার জন্যই আবেদন জানানো হচ্ছে—পাছে ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ে! ধর্মতলার প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শুনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা চাঙ্গা হবেন। আর তার পাঁচদিন আগে একেবারে উল্টো ছবি গেরুয়া শিবিরে—দলের নিচুতলায় কর্মী-সমর্থকদের মনের কথা চাপা দিতে উদোগী নেতৃত্ব।  
  • Link to this news (বর্তমান)