• ওএমআর শিট নষ্টের সিদ্ধান্ত একাই নিয়েছিলেন মানিক  
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই আসল ওএমআর নষ্ট হওয়া নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয়েছে। হার্ড ডিস্কের নথি উদ্ধারে পৃথিবীর যেকোনও তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা, এমনকী এথিক্যাল হ্যাকারদের সাহায্য গ্রহণেরও ছাড়পত্র সিবিআইকে দিয়েছে হাইকোর্ট। আর এসবের মাঝেই ওএমআর নষ্ট করা নিয়ে হাইকোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এদিন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে মামলার শুনানিতে পর্ষদের আইনজীবী দাবি করেন, ওএমআর শিট নষ্ট করেছেন তৎকালীন পর্ষদ সভাপতি। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একথা শুনে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি মান্থা। 


    এদিন পর্ষদের আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পর্ষদের কোনও সদস্যের পরামর্শ ছাড়াই ওএমআর শিট নষ্ট করা হয়েছিল। কাজটি সম্পূর্ণ বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও ওএমআর শিট নষ্ট করা হয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যের অনুমোদনে। তিনি নিজে এই কাজ করিয়েছেন। আইনজীবী আরও জানান, মানিক ভট্টাচার্য বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। তাই এটা করার সময় বোর্ডের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়নি। বিষয়টি শোনার পরই বিচারপতি জানতে চান, ওএমআর শিট যে নষ্ট করা হচ্ছে সেই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত বা রেজোল্যুশন হয়েছিল কি? পর্ষদের আইনজীবী জানান, এরকম কিছু হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। এরপরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওএমআর শিট নষ্ট করার জন্য কোনও মিটিং বা রেজোল্যুশনের কপি থাকলে তা আদালতে জমা দিতে হবে। পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার।  


    এদিকে, এদিন ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালতে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি হয়। সেখানে ওএমআর শিট মূল্যায়নের দায়িত্বে নিযুক্ত এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির ভূমিকা ও দায়িত্ব কী ছিল তা তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে জানতে চায় আদালত। সিবিআইয়ের তরফে আদালতে জানানো হয়, চার্জশিটে এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির কর্মচারী পার্থ সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রস্তুত এবং সেই তালিকা পর্ষদে মেল করার অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, এক্ষেত্রে একটি বড় দুর্নীতি হয়েছে। এখানে ওই তৃতীয় সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারক এরপরই জানতে চান, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে। আপাতত তদন্ত চলছে বলে সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে।    
  • Link to this news (বর্তমান)