• ডাক বিভাগের নামে হংকং থেকে আসছে জালিয়াতদের মেসেজ
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্সেল ফেরত এলে ভারতীয় ডাক বিভাগ ঠিক যে বয়ানে লেখা মেসেজ পাঠায়, ঠিক তেমন মেসেজ পাঠিয়ে শুরু হয়েছে প্রতারণা।


    মেসেজে প্রেরকের নাম লেখা, ‘ইন্ডিয়া পোস্ট’। ভারতীয় ডাক বিভাগের লোগোও তাতে আছে। নীচে লেখা, ‘আপনার নামে যে পার্সেলটি পাঠানো হয়েছিল, আপনি বাড়িতে না থাকায় সেটি ফেরত চলে গিয়েছে। কোন দিন, কোন সময় বাড়িতে থাকবেন জানাতে এই লিঙ্কে ক্লিক করে ফর্ম পূরণ করুন।’


    সাধারণত এমন মেসেজ পাঠায় ভারতীয় ডাক বিভাগ। ঠিক সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে জালিয়াতির ফাঁদ পাতছে সাইবার প্রতারকরা। কিন্তু ডাক বিভাগ কোনও লিঙ্ক দেয় না। তবে জালিয়াতরা লিঙ্ক দিচ্ছে। তাতে ক্লিক করলেই গ্রাহকের মোবইলটি দূর থেকে অপারেট করতে পারবে তারা। তারপর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে টাকা তুলে নেওয়াটা তাদের কাছে জলভাত। ফলে এই ধরনের লিঙ্ক কখনও খোলা উচিত নয়, সাবধানবাণী পুলিসের।


    ইতিমধ্যেই এ ধরনের চারটি মৌখিক অভিযোগ এসেছে লালবাজারের সাইবার বিভাগে। তবে অভিযোগকারীরা সচেতন ছিলেন বলে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হয়নি। পুলিস আধিকারিকদের অবশ্য বক্তব্য, হুবহু ডাক বিভাগের বয়ান জাল করে মেসেজ পাঠানোর জন্য সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হতে পারেন। সে কারণেই এই নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচার শুরু করেছে কলকাতা পুলিস।


    সুবীর সেনগুপ্ত নামে টালিগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে গত সপ্তাহে ‘ইন্ডিয়া পোস্ট’ থেকে একটি মেসেজ আসে। মেসেজের বয়ান, ‘তিনি বাড়ি না থাকায় পার্সেল ফেরত চলে গিয়েছে।’ সুবীরবাবু বুঝতে পারেন, মেসেজটি পাঠিয়েছে প্রতারকরা। তিনি পুলিসকে জানান, কোনও পার্সেল আসার কথা ছিল না। এবং দিনকয়েক বাড়িতেই সারাক্ষণ ছিলেন। এই দু’কারণে তাঁর সন্দেহ হওয়ায় পুলিসের কাছে এসেছেন। একই অভিযোগ আসে উত্তর কলকাতার মানিকতলা এবং শ্যামবাজার থেকেও। তবে মেসেজপ্রাপ্তদের কেউই মেসেজে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করেননি বলে বেঁচে গিয়েছেন। ঘটনাগুলির কথা জানার পর খোঁজখবর শুরু করে লালবাজারের সাইবার শাখা। খতিয়ে দেখার পর পুলিসের অনুমান, সবকটি মেসেজই এসেছে হংকং থেকে। তবে মেসেজগুলি আদতে হংকং থেকে আসছে না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘ভার্চুয়াল প্রোটোকল নেটওয়ার্ক’ (ভিপিএন) ব্যবহার করে মেসেজগুলি পাঠাচ্ছে জালিয়াতরা। কয়েকটি মেসেজ দুবাই থেকে এসেছে। এইসব মেসেজ ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রাহকের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য জালিয়াতরা ইমেল জেনারেটেড মেসেজ পাঠাচ্ছে। ডাক বিভাগ ঠিক এইভাবে কাজ করে। এমন একটি ইমেল অ্যাকাউন্টের খোঁজও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সাইবার বিভাগ সূত্রে খবর। তবে সেটি ট্র্যাক করা কঠিন। মেসেজগুলি আসছে ‘মেসেজ ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল’ (এমওআইপি) কাজে লাগিয়ে। যেখানে প্রেরকের সঠিক লোকেশন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। লালবাজারের এক আধিকারিক বলেন, সাইবার প্রতারণা নিয়ে টানা সচেতনতা প্রচার চলছে। সে কারণেই ইন্ডিয়া-পোস্টের নামে মেসেজে ঠকে গিয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ প্রতারিত হননি।
  • Link to this news (বর্তমান)