• সাতদিনের মধ্যে একই বাড়িতে দু’বার চুরি, অধরা দুষ্কৃতীরা
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাতদিনের ব্যবধানে একই বাড়িতে পরপর দু’বার চুরি! সাম্প্রতিককালে জোড়া চুরির এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানার ব্রহ্মপুর প্রগতি পার্কে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এই চুরির ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার ১১বি, প্রগতি পার্কের বাসিন্দা নীলাঞ্জনা বসু জানিয়েছেন, ১ জুলাই তিনি মুম্বইয়ে বড় মেয়ের কাছে গিয়েছিলেন। ফলে বাড়ি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে মাঝরাতে দুষ্কৃতীরা গ্রিল ও কাঠের দরজা কেটে ঘরে ঢুকে সোনার গয়না, নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, ঘর লণ্ডভণ্ড! এরপর নীলাঞ্জনাদেবী বাঁশদ্রোণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছিল বাঁশদ্রোণী থানা এবং লালবাজার। ঘটনার পর আতঙ্কিত নীলাঞ্জনাদেবী তাঁর বোন রামায়ণী ভট্টাচার্যের বাড়িতে চলে যান। অভিযোগ, আগের চুরির কিনারা হওয়ার আগে সোমবার, ৮ জুলাই মাঝরাতে ফের তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে দুষ্কৃতীরা ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে। তাঁর বাড়িতে পরপর চুরি হওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নীলাঞ্জনাদেবী। তিনি বলেছেন, ‘এই বাড়িতে রাতে আমি কীভাবে থাকব, ভেবে পাচ্ছি না।’ এই নজিরবিহীন চুরির ঘটনা জানার পর কলকাতা পুলিসের ডিসি (এসএসডি) বিদিশা কলিতা ফোন করে নীলাঞ্জনাদেবীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনার সময় নীলাঞ্জনাদেবীর স্বামী রণবীর বসু প্রয়াত হন। তাঁর বড় মেয়ে কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকেন। ছোট মেয়েও কাজের সুবাদে দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা। ফলে প্রগতি পার্কের ওই বাড়িতে একাই থাকেন নীলাঞ্জনা বসু।


    সাম্প্রতিককালে তো বটেই, কলকাতা পুলিসের ইতিহাসে সাতদিনের ব্যবধানে একই বাড়িতে পর পর চুরির ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন লালবাজারের চুরি দমন শাখার প্রাক্তন গোয়েন্দারা। একই বাড়িতে কীভাবে পরপর চুরি হল, তা নিয়ে বাঁশদ্রোণী থানার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রগতি পার্কের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা পুলিসের উপর আস্থা রাখতে ভরসা পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুলিসের ডিসি (এসএসডি) বিদিশা কলিতাকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। এদিকে এদিন এন্টালি থানার ১৭এ, পটারি রোডের বাড়ি থেকে মোবাইল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ। বাড়ির মালিক স্বরূপা দে’র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ ধারায় চুরির মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে এন্টালি থানার পুলিস। পাশাপাশি, লালবাজারের গোয়েন্দারাও বিষয়টি দেখছেন। তবে এই ঘটনায় পুলিস এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)