• রয়্যাল বেঙ্গল নয়, চন্দ্রবোড়ার আতঙ্কে সুন্দরবন
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জলে কুমির ডাঙায় বাঘ— এতদিন এই আতঙ্ক বুকে নিয়েই দিনযাপন করেছেন সুন্দরবনবাসী। এবার তার উপর বিষফোঁড়ার উপর চেপে বসেছে চন্দ্রবোড়ার (রাসেল ভাইপার) উপদ্রব। রীতিমতো রাতের ঘুম উড়েছে জঙ্গলের বাসিন্দাদের। ক্যানিংয়ে ইতিমধ্যেই চন্দ্রবোড়া সাপের ছোবলে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। তাঁদের ক্যানিং হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অবশ্য তাঁদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে ওঠায় বাড়ি চলে গিয়েছেন।


    ইদানীং বিষাক্ত চন্দ্রবোড়ার আনাগোনা বেড়েছে সুন্দরবন অঞ্চলে। ক্যানিং হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ ডাঃ সমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার এই সাপের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। গত মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ১১০ জনের বেশি মানুষ সর্পাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ক্যানিং হাসপাতালে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি রোগী চন্দ্রবোড়ার ছোবল খেয়েছেন। সাপের কামড়ে জখম হয়ে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁরা মূলত ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের নারায়ণপুর, সুন্দরবনের কুলতলি, বসিরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা, বারুইপুর মহকুমার সোনারপুর, জয়নগর, বারুইপুর, এবং আলিপুর সদর মহকুমার বিষ্ণুপুর ও বজবজ, ডায়মন্ডহারবারের ধামুয়া প্রভৃতি জায়গার বাসিন্দা। ডাক্তাররা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও চন্দ্রবোড়ার কামড়ে এখনও কেউ মারা যাননি। সর্পাঘাতে যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা অন্য সাপের ছোবলে মারা গিয়েছেন। এবারে চন্দ্রবোড়ার উপদ্রব বেশি কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপই একমাত্র বাচ্চা প্রসব করে। ফলে তাদের বাঁচার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঝোপঝাড় বা পরিত্যক্ত জায়গায় এই সাপ বেশি দেখা যায়। কালাচ বা কেউটের মতো এরা সচরাচর ঘরে ঢোকে না। যাঁরা মাঠে কাজ করতে যান, তাঁদেরই একাংশ চন্দ্রবোড়ার কামড়ে জখম হয়েছেন। বর্ষার মরশুমে এমনিতেই সাপের উপদ্রব বাড়ে। তবে বৃষ্টি কম হলে চন্দ্রবোড়ার দল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টি বাড়লে জল জমতে শুরু করে। সেই সময় দাপট বাড়ে কালাচ ও কেউটের। সমরেন্দ্রবাবুর কথায়, এখন প্রতিদিন অন্তত দু’-তিনজন করে চন্দ্রবোড়ার কামড় খেয়ে হাসপাতালে আসছেন। গত বছর যেখানে ২৫-৩০ জন সাপের ছোবল খেয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করিয়েছিলেন, এবার এখনই সেই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন হল, সাপের কামড় থেকে সাধারণ মানুষ বাঁচবেন কী করে? সর্প বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষকে আরও বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, এমনকী খাবারের টুকরোও ফেলে রাখা যাবে না। 
  • Link to this news (বর্তমান)