কলকাতা পুরসভার কর্মী খুনের ঘটনায় ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কলকাতা পুরসভার কর্মী লালবাবু গোয়ালাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম চিরঞ্জিত রায় ওরফে রামা। সোমবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত বছর আঠাশের রামা এই খুনে সরাসরি যুক্ত। পুরনো শত্রুতার জেরেই এই খুনের ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, ২০১৭ সালে রামার বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যু রহস্যের কিনারা এখনও হয়নি। পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছিল রামার বাবার। অনেকের দাবি, তাঁকে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় লালবাবু গোয়ালা যুক্ত ছিল বলে দাবি রামার পরিবারের। সেই আক্রোশ থেকেই কি লালাবাবুকে খুন করা হয়েছে? এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে উঠে আসছে তদন্তকারীদের মনে।
এদিন আদালতে যাওয়ার পথে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে চিরঞ্জিত। পাশাপাশি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে সে। অভিযুক্তকে এদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। আপাতত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই খুনের রহস্য উন্মোচন করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এ নিয়ে চন্দননগরের পুলিস কমিশনার অমিত পি জাভালগি বলেন, আমরা সব দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত করছি। ইতিমধ্যেই বেশকিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত এই রহস্যের কিনারা হবে।
প্রসঙ্গত, ৩ জুলাই সন্ধ্যায় ব্যান্ডেল এলাকার দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজিডাঙায় খুন হন লালবাবু গোয়ালা। কলকাতা পুরসভার ওই কর্মীকে গুলি করে খুন করা হয়। মৃতের পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেন মৃতের ভাইপো আদিত্য গোয়ালাকে। কিন্তু আদিত্য কেন খুন করবে, তার কোনও ব্যাখ্যা তখন দিতে পারেনি পুলিস। বর্তমানে সে পুলিস হেফাজতে রয়েছে। ওই মামলায় এবার চিরঞ্জিতকে গ্রেপ্তার করলেন তদন্তকারীরা। পুরনো শত্রুতার জেরেই খুন, নাকি এই গুলিকাণ্ডের পিছনে অন্য রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। -নিজস্ব চিত্র