• ডেঙ্গু প্রতিরোধে পঞ্চায়েত পিছু একদিন করে বিশেষ সাফাইয়ের ‘দাওয়াই’
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডেঙ্গু ঠেকাতে সাফাইকেই ‘দাওয়াই’ বানাচ্ছে ব্লক প্রশাসন। কারণ খাতায়-কলমে গ্রাম হলেও বাস্তবে শহুরে চরিত্রের বালি- জগাছা ব্লক এতটাই ঘিঞ্জি যে, যে কোনও সময় ডেঙ্গুর আঁতুরঘর হয়ে উঠতে পারে। ব্লকের সর্বত্রই নিকাশির কমবেশি সমস্যা রয়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই জমা জলের আতঙ্ক তাড়া করে বাসিন্দাদের। বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকে আবর্জনা। এবার ব্লক প্রশাসন পঞ্চায়েত ভিত্তিক একদিনের সাফাই অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েছে। 


    হাওড়া শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বালি-জগাছা ব্লক। বাম আমলে এই ব্লকের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতকে কেটে যুক্ত করা হয়েছিল হাওড়া পুরসভার সঙ্গে। এখন এই ব্লকের মধ্যে রয়েছে মাত্র আটটি পঞ্চায়েত। তবে এইসব পঞ্চায়েত এলাকার চরিত্র বদলে গিয়েছে আগেই। এই ব্লক এখন পুরোটাই শহর। ঘিঞ্জি পরিবেশ, অলিগলিতে মাথা তুলেছে বহুতল, জনসংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। বালি-জগাছা ব্লকে নিকাশি, সাফাই, স্বাস্থ্য, রাস্তা, আলো, পানীয় জলের মতো সাধারণ পরিকাঠামোর ব্যাপক খামতি। প্রতি বর্ষায় বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা জমা জলে কার্যত হাবুডুবু খায়। যার মধ্যে রয়েছে বালি, নিশ্চিন্দা, সাপুইপাড়া-বসুকাটি, চকপাড়া আনন্দনগর এবং দুর্গাপুর-অভয়নগর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের একাংশ। যে কারণে ফি বর্ষায় ডেঙ্গু মাথাচাড়া দেয় এখানে। চলতি বছরে এখনও অবধি জগদীশপুর ও দুর্গাপুর অভয়নগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় মাত্র দু’জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। বর্ষায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। শুরুতেই ডেঙ্গুকে ঠেকাতে না পারলে বিপদ যে চেপে বসবে, তা বিলক্ষণ জানে প্রশাসন। তাই ব্লক পর্যায়ের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, পঞ্চায়েত পিছু একদিন করে বিশেষ সাফাই অভিযান করা হবে। সাপুইপাড়া-বসুকাটি পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে শুরু হবে এই অভিযান। প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে ডেঙ্গুপ্রবণ পঞ্চায়েতগুলিকে। এই তালিকায় রয়েছে বালি, নিশ্চিন্দা এবং চকপাড়া। তারপর ধাপে ধাপে বাকি পঞ্চায়েত এলাকায় সাফাই করা হবে।


    ব্লক সূত্রের খবর, সমীক্ষায় অপরিচ্ছন্ন জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল অঞ্চলকে এই কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ব্লক এলাকায় থাকা সরকারি ভবন, সরকারি স্কুল, আইসিডিএস সেন্টার, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি অনেক জায়গাতেই অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। দেখা গিয়েছে, এইসব জায়গায় জমা জলে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। যা ছড়িয়ে পড়ছে গোটা এলাকায়। এ নিয়ে বালি-জগাছা ব্লকের বিডিও সঞ্জয়কুমার গুছাইত বলেন, যেদিন যে পঞ্চায়েত এলাকায় অভিযান চালানো হবে, সেদিন সেখানে ব্যাপক সাফাই করা হবে। সে নিকাশি নালাই হোক বা জমা জল। সরকারি ভবনগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে সাফাই করা হবে। কারণ সেখানে জমা জল থেকে ডেঙ্গু সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও জনবহুল এবং বিভিন্ন বাজার এলাকা যাতে নিয়মিত সাফাই করা যায়, তার চেষ্টা চলছে। এখনও অবধি আমাদের ডেঙ্গু গ্রাফ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় বছর শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য।
  • Link to this news (বর্তমান)