হাত, পা কাঁপছে! বাংলাদেশ থেকে আতঙ্ক নিয়েই ফিরলেন পড়ুয়ারা
বর্তমান | ২১ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি ও মেখলিগঞ্জ: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ থেকে আতঙ্ক নিয়েই ফিরলেন একদল পড়ুয়া। সঙ্গে বহু সাধারণ মানুষ। কেউ পর্যটক, কেউ আবার আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। শনিবার শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ফেরার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও চোখেমুখে তখনও আতঙ্ক। হাত, পা কাঁপছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা জানাতে গিয়ে সকলেই আঁতকে ওঠেন।
সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের প্রতিবাদে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন চলছে। তার জেরেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ। অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে হাসিনা সরকার। চলছে সেনা টহল। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এদিন ভারত ও নেপালের বিভিন্ন জায়গার পড়ুয়ারা দেশে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। কাঠমান্ডুর বাসিন্দা পড়ুয়া অস্মিতা কারকি ভেটেনারি মেডিসিন নিয়ে পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। তিনি বলেন, আন্দোলন এতটাই ব্যাপক আকার নিয়েছে যে সেখানে থাকা আর নিরাপদ নয়। ইন্টারনেট বন্ধ। শুক্রবার থেকে ১৪৪ ধারা বহাল হয়েছে। সেনা নেমেছে, দেখামাত্র গুলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। চারদিকে আগুন জ্বলছে। গণপরিবহণ বন্ধ। এমন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ওদেশে থাকতে ভয় হচ্ছিল। সব সময় আতঙ্কে ছিলাম, এই বুঝি প্রাণ যায়।
এদিন যে ছাত্রছাত্রীরা এসেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তাঁরা বলেন, ঢাকা, রাজশাহীর মতো শহর এলাকাতেই অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। জাতীয় সড়ক দিয়ে আসা প্রচণ্ড ঝুঁকির। রাস্তায় যখন তখন মারমুখী জনতা আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। প্রাণ হাতে করে
ঘুরপথ দিয়ে এসেছি। রাস্তায় বড় কোনও বিপদ না হলেও বেশ কয়েক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি হয়েছে। জুলুমবাজিও হয়েছে। টাকা দিয়ে কোনওক্রমে তাদের কাছ থেকে নিস্তার মিলেছে। অন্যদিকে, শনিবার চ্যাংরাবান্ধা দিয়েও বাংলাদেশ থেকে ১৩ জন পড়ুয়া ভারতে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনই নেপালের বাসিন্দা। এছাড়া
ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের একজন করে পড়ুয়া রয়েছেন। ভারতের মাটিতে পা রেখেই ভুটানের বাসিন্দা ডাক্তারি পড়ুয়া সোনম তাসি বলেন, বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ পরিস্থিতি। প্রাণ হাতে নিয়ে ভারতে ফিরলাম। অসমের ডাক্তারি পড়ুয়া মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জীবনে কোনওদিন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, ভাবিনি। ভয়ে এখনও আমার হাত, পা কাঁপছে। - নিজস্ব চিত্র