নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: ব্যবসায়ীদের আন্দোলনে সায় হিমঘর মালিক সমিতির। ফলে আজ, সোমবার থেকে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আলু নিয়ে চরম সঙ্কট তৈরির আশঙ্কা। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির শাখা সংগঠন উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির বক্তব্য, সরকারি নির্দেশিকা না থাকা সত্ত্বেও ভিনরাজ্যে আলু যেতে দিচ্ছে না পুলিস প্রশাসন। অসমের পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা সীমানায় আলুর ট্রাক আটকে হয়রানি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেআজ থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কারবার বন্ধের ডাক দিয়েছে। আলু ব্যবসায়ীদের এই আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে হিমঘর মালিক সমিতি। রবিবার বৈঠক করে উত্তরবঙ্গ হিমঘর মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উত্তরবঙ্গের ৮৫টি হিমঘরের দরজা খোলা রাখা হবে। বুকিং হলে আলু বেরবে। কিন্তু বুকিং না হলে তাদের কিছু করার নেই। এমনিতেই উত্তরের বাজারে ৩২-৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। তার উপর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের জেরে আলুর দাম চড়তে পারে বলে আশঙ্কা। রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেছেন, ‘ব্যবসায়ীদের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁদের কোনও বক্তব্য থাকলে আলোচনার পথ খোলা। প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবলু চৌধুরী বলেন, উত্তরে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ প্যাকেট আলু উৎপাদিত হয়েছে। এক একটি প্যাকেট ৫৩-৫৫ কেজির। নভেম্বর পর্যন্ত যদি হিমঘর থেকে আলু বের করার চূড়ান্ত সময়সীমা হয়ে থাকে, তাহলে হাতে রয়েছে আর চারমাস। তার মধ্যে পুজোর ছুটি রয়েছে। হিসেব মতো, প্রতি মাসে ১০-১২ শতাংশ আলু হিমঘর থেকে বাইরে বের হয়। সেই মতো এখনও হিমঘরে প্রায় ৭০ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। ফলে ঘাটতির কোনও প্রশ্নই নেই। তাহলে ভিনরাজ্যে আলু পাঠাতে দেওয়া হচ্ছে না কেন? এমনটা হলে তো বিপুল পরিমাণ আলু পচে নষ্ট হয়ে যাবে।
কিন্তু হিমঘরে এত আলু মজুত থাকার পরও খুচরো বাজারে কেন আলুর দাম কমছে না? বাবলুর সাফাই, হিমঘর থেকে যখন আলু বেরচ্ছে, তখন কেজি প্রতি দাম থাকছে ২৩ টাকার মতো। সেই আলু খুচরো বাজারে গিয়ে যদি ৩৫ টাকা হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আমাদের কী করার আছে? পুলিসি হয়রানির প্রতিবাদে আমরা সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করছি। আলু ব্যবসায়ীরা সবাই ছুটি কাটাতে চলে যাবেন। হিমঘর থেকে কারা আলু বের করবে, আমরা জানি না।
হিমঘর মালিক সমিতির উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক মনোজ সাহা বলেছেন, ‘ এই আন্দোলনে আমাদের নৈতিক সমর্থন থাকলেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উত্তরবঙ্গে সমস্ত হিমঘর খোলা থাকবে। বুকিং হলে হিমঘর থেকে আলু বেরবে। কিন্তু বুকিং না হলে আমাদের কোনও দায় নেই।’ রাজ্য সরকারের তরফে বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে গঠন করা টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলে বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন, হিমঘরে পর্যাপ্ত আলু মজুত রয়েছে। তারপরও বাজারে আলুর দাম কমছে না কেন? মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পর বাজারে লাগাতার অভিযান চলছে। সমস্ত আনাজের দাম অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু আলুর দাম ৩৫ টাকা কেজি। কোথাও কোথাও ৩২ টাকা । এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কিন্তু দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।