নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘বর্ষায় ডুয়ার্স’। ধস ও নদী ভাঙনে পাহাড় বিপর্যস্ত হওয়ায় ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্প নিয় এমন ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন ট্যুর অপারেটররা। তাঁদের লক্ষ্য, দোতারা থেকে ভাওয়াইয়া সঙ্গীত, চা বাগান থেকে নদী, কোচ ও ভুটান রাজাদের ঐতিহ্য থেকে হেরিটেজ নিদর্শন তুলে ধরা। ইতিমধ্যেই কলকাতার পর্যটন মেলায় বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা করতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটা বাস্তবায়িত হলে এলাকার চা শিল্প, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ঘটবে।
বর্ষার মরশুম মানেই পাহাড়ে ধস ও নদী ভাঙন। চলতি বর্ষার মরশুমে কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ২৫-৩০ বার ধস নেমেছে। সঙ্গে তিস্তা নদীর ভাঙন। কিছু জায়গায় নদী রাস্তা গিলে নিয়েছে। যার ফলে সংশ্লিষ্ট রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এরজেরে কালিম্পং ও সিকিম পাহাড় নির্ভর পর্যটন শিল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এজন্যই ডুয়ার্স নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করছেন ট্যুর অপারেটররা। ইতিমধ্যে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক এবিষয়ে ফ্লেক্স তৈরি করে প্রচারে নেমেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই বর্ষার মরশুমে পাহাড় নির্ভর পর্যটন শিল্প মার খাচ্ছে। এবার পর্যটন ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাই ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্প নিয়ে অফলাইন এবং অনলাইন প্রচার শুরু করেছি। করোনেশন সেতু থেকে আলিপুরদুয়ারের বক্স, কোচবিহার থেকে ভুটান সীমান্ত জয়গাঁও, অসম সীমান্ত তুফানগঞ্জে ছড়িয়ে আছে অসংখ্যা উপকরণ। চা বাগান থেকে চঞ্চল নদী, দোতারা থেকে ভাওয়া সঙ্গীত, নৃত্য, বিভিন্ন জনগষ্ঠীর সংস্কৃতি, রাজপ্রাসাদ থেকে প্রাচীন মন্দির প্রভৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সেসব উপকরণগুলি তুলে ধরা হচ্ছে।
গত ১২ থেকে ১৪ জুলাই কলকাতার বিশ্ববঙ্গ মিলন মেলায় তিনদিনের পর্যটন মেলায় হয়। তাতেও ‘বর্ষায় ডুয়ার্সে’ ব্যানার নিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে। ব্যানারে কোচবিহারের রাজবাড়ি, সবুজ চা বাগান, পাহাড়, নদীর ছবি রয়েছে। কিন্তু, বর্ষার মরশুমে জঙ্গল বন্ধ রাখে বনদপ্তর। তা হলে কীভাবে পর্যটকরা ডুয়ার্স ভ্রমণ করবেন? ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জঙ্গল সাফারি বাদ দিয়েই এই প্যাকেজ তৈরি করা হবে। প্যাকেজে চা বাগান, ডুয়ার্সের বনবস্তি, সংস্কৃতি, গ্রামীণ অর্থনীতি, হস্তশিল্প, প্রাচীন নির্দশ প্রভৃতি তুলে ধরা হবে। ডুয়ার্সের জঙ্গল ও কোচবিহারে ছড়িয়ে রয়েছে কোচরাজা এবং ভুটান রাজাদের প্রচুর কাহিনী। কলকাতার পর্যটন মেলায় এই বিষয়গুলি তুলে ধরে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এর সুফল এবার পুজোয় এবং আগামী বর্ষার মরশুমে মিলবে বলেই আশা করি। এতে ডুয়ার্সের চা শিল্পেরও প্রসার ঘটবে। এদিকে, কালিম্পং ও সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এখনও বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড় কেটে এখনও রাস্তাটি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, পাহাড় কেটে স্বাভাবিক করা হয়েছে দার্জিলিংগামী ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক। তা দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে।