• ‘মোদির পতন সময়ের অপেক্ষা’, একুশের মঞ্চে প্রত্যয়ী মমতা-অখিলেশ
    বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাড়া করা দুটি ‘পায়া’ দিয়ে চলা নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় ইনিংসের ‘গদি’ যে টলমলে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নিরিখে তার উপলব্ধি হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবের। সেই উপলব্ধিকে রবিবার ধর্মতলার জনসমুদ্রে ভাসিয়ে সবার মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন ভারতীয় রাজনীতির দুই ‘মেগাতারকা’। এজেন্সি জুজু, গ্রেপ্তারের হুমকি, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি, টাকা ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা লোকসভা ভোট পর্বে দুই রাজ্যেই সমানভাবে চালিয়ে গিয়েছিল পদ্মপার্টি। কিন্তু লাভ হয়নি! বাংলা আর উত্তর প্রদেশ দুই রাজ্যের সাধারণ মানুষই মোক্ষম জবাব দিয়েছে মোদি-শাহ-যোগীকে। এই দুই রাজ্যে মোদি-শাহ বধের দুই কারিগর এদিন ধর্মতলার জনজোয়ারকে আশ্বস্ত করলেন, জানিয়ে দিলেন—নরেন্দ্র মোদির ‘অতিথি’ সরকার, কিছুদিনের ‘মেহেমান’ মাত্র। পতন সময়ের অপেক্ষা। একইসঙ্গে শপথ নিলেন, দেশ বাঁচানো, সংবিধান বাঁচানোর। মমতা বললেন, ইডি-সিবিআই সহ বিভিন্ন এজেন্সির ভয় দেখিয়ে যে সরকার নিয়ে আসা হয়েছে, সে সরকার বেশিদিন চলবে না। কেনাকাটা করে সরকার গড়েছে, অথচ যে দুটি ‘পায়া’তে টিকে রয়েছে গদি, তাদের ভালো মিনিস্ট্রি পর্যন্ত দেয়নি। অখিলেশের কথায়, এই সরকার চলার জন্য নয়, পতনের জন্য হয়েছে। চন্দ দিনো কা মেহমান হ্যায়, চলা জায়েগা।


    ২১’এর শহিদ তর্পণ মঞ্চকে তৃণমূল বরাবরই নিজেদের ‘আত্মাভিমানের ভরকেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। এই পরিসরে বন্ধু দলের উপস্থিতি তেমন একটা নেই বললেই চলে। ২০০৯’এর লোকসভা নির্বাচন পর্বে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল তৃণমূল। তখন এ রাজ্যে কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক ছিলেন কে কেশব রাও। তৃণমূলের আমন্ত্রণে এসেছিলেন শহিদ তর্পণ মঞ্চে। এরপর গঙ্গা দিয়ে বিস্তর জল বয়ে গিয়েছে। সেই ভরকেন্দ্রকে আর মজবুত করলেও, বন্ধু বা শরিক দলের কাউকে আর এতদিন দেখা যায়নি ধর্মতলায়। লোকসভা ভোটের বিজেপি’র ‘স্বপ্নভঙ্গ’ ধারাবাহিকতায় ছেদ টানল। ‘দিদি’ মমতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কিরণময় নন্দকে সঙ্গে নিয়ে ২১’এর সমাবেশে এলেন অখিলেশ যাদব। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা ভোটে দিদি’র দলকে উত্তর প্রদেশের ভাদোহি আসনটি ছেড়েছিলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান। তৃণমূল প্রার্থী ললিতেশপতি ত্রিপাঠির হয়ে প্রচারেও গিয়েছিলেন। অল্প ভোটে হেরেছেন ললিতেশ। তৃণমূলের সেই প্রার্থীকে নিজের বিমানে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন অখিলেশ। 


    তাঁকে ঘিরে এদিন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা যে উচ্ছ্বাস আর আবেগ দেখিয়েছে, তাতে আপ্লুত উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে সওয়ার হয়ে ধর্মতলায় আসার পথে মমতাকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের যে উন্মাদনার সাক্ষী হয়েছেন, মঞ্চে উঠেই তা স্মরণ করেছেন অখিলেশ। ‘একজন দলনেত্রীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কী সম্পর্ক, তাঁকে ঘিরে আবেগ, উচ্ছ্বাস কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, আজ মমতাদিদিকে দেখে বুঝলাম, জানলাম। নেত্রীর সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের এই সম্পর্কই তৃণমূলের আসল শক্তি।’ লাখো লাখো মানুষের জমায়েতকে সম্বোধন করে সমাজবাদী প্রধান বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচন পর্বে আপনাদের বিরুদ্ধে কী কী ষড়যন্ত্র হয়েছিল, সবাই জানে। কিন্তু সেই সব ষড়যন্ত্রকারীদের মতলব ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন আপনারা।’ গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অখিলেশের অদম্য লড়াইকে সম্মান জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমোও। মমতা বলেছেন, ‘মুম্বইতে দেখা হওয়ার সময় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাতে সাড়া দিয়ে আপনি এসেছেন, আমরা গর্বিত। যো খেল আপনে দিখায়া, সাবাশ! আপনাকে, আপনার দল আর গোটা উত্তর প্রদেশের মানুষকে কুর্নিশ জানাই।’ ভারতীয় রাজনীতির মেগা দুই তারকা মমতা ও অখিলেশকে নিজের বক্তৃতা পর্বে সগর্বে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক বিজেপি দলটাকে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন দু’জন। বাংলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও উত্তর প্রদেশে অখিলেশ যাদব।’       
  • Link to this news (বর্তমান)