‘ধর্মেন্দ্র প্রধান অ্যারেস্ট হবেন না কেন’, নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা অভিষেকের
বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: টেট কাণ্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ‘সক্রিয়’। কিন্তু নিট কেলেঙ্কারিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ক্ষেত্রে ‘নিষ্ক্রিয়’। শিক্ষায় দুর্নীতির তদন্তে রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই মন্ত্রীর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সির দু’রকম পদক্ষেপ কেন? কেন গ্রেপ্তার করা হবে না কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে? রবিবার ধর্মতলার ২১ জুলাই শহিদ তর্পণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির এহেন দ্বিচারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিট ইস্যুতে তুলোধোনা করলেন বিজেপিকে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সাফ কথা, দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেনি তৃণমূল। প্রশাসনিক ও দলগতভাবে পার্থবাবুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি এখনও তেমন কোনও পদক্ষেপ করতেই পারেনি।
২০২২ সালের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে হাজির ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ঠিক পরদিন নাকতলার বাড়িতে হানা দেয় ইডি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধারের পর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তারপর থেকে জেলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। ঘটনাচক্রে ঠিক দু’বছরের মাথায় এদিন তৃণমূলের সেই ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানেই তাঁর প্রসঙ্গ টেনে আনলেন দলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড। তাও আবার নিট কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে। অভিষেকের প্রশ্ন, ‘যদি কেউ দোষ করে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা হোক। আমরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি গ্রেপ্তার হন, তাহলে নিট কেলেঙ্কারিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান গ্রেপ্তার হবেন না কেন?’ একথা সত্যি যে পার্থ ‘ওজনদার’ নেতা হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হয়নি তৃণমূল। গ্রেপ্তার হওয়ার ছ’দিনের মাথায় মন্ত্রিসভা ও দলের পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে বিজেপি কেন ‘নীরব’, সেই প্রশ্নটাই তুলেছেন অভিষেক।
সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হয়েছে তৃণমূল। লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের উভয় কক্ষ মিলিয়ে তাদের এমপি সংখ্যা ৪২। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াই আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকার নিতে চলেছে, তা এদিন খোলা মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেছেন অভিষেক। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এক ছটাক জমিও ছাড়া হবে না। মোদিকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে বাংলা। ওরা ১০০ দিনের টাকা বন্ধ করেছিল, মানুষ বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধ করেছে। এমনকী যে সন্দেশখালি নিয়ে বিজেপি গলা ফাটিয়েছিল, সেই বসিরহাটে সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে জিতিয়ে জবাব দিয়েছেন মানুষ।’