• পুজোর পর লক্ষ্মীর ভান্ডার, বিধবা ভাতায় নতুন উপভোক্তা যোগ 
    বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: আবাস প্রকল্পের বঞ্চিত উপভোক্তাদের ডিসেম্বর থেকেই টাকা দেবে ‘মা-মাটি-মানুষের’ সরকার। কেন্দ্রের মোদি সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে ফের একবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একথা জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবাস, ১০০ দিনের কাজ, সড়ক খাতে বাংলাকে বঞ্চনাই সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অন্যতম হাতিয়ার ছিল। নির্বাচনী প্রচারে এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দিল্লি টাকা না দিলে রাজ্য সরকারই গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির টাকা দেবে বলে ঘোষণা করেন তাঁরা। সেই ঘোষণা কার্যত কোণঠাসা করে দেয় গেরুয়া শিবিরকে। যার প্রমাণ মেলে এ রাজ্যের ভোটের ফলাফলে। লোকসভার পর প্রথম শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে রবিবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তাই রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিলেন মমতা-অভিষেক। 


    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘আমরা কথা দিলে কথা রাখি। আমরা ডিসেম্বর থেকেই আবাসের প্রথম পর্যায়ের টাকা দেব। আমাদের কাছে যে তালিকা আছে, সেই অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে।’ কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি নেতারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে মানুষকে লাঞ্ছিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, শোষিত, অত্যাচারিত, অবহেলিত করে ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাসের টাকা, রাস্তার টাকা, জলের টাকা, মিড ডে মিলের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। দিল্লির দয়াদাক্ষিণ্যে আমরা বেঁচে নেই। কবে দিল্লি বাড়ির জন্য টাকা দেবে, আর বাংলার মানুষ বাড়ির টাকা পাবে, তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসও বসে নেই। নির্বাচনের সময় বলেছি, আজও বলছি, ৩১ ডিসেম্বরের আগে আবাস প্লাসের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের সবাইকে তৃণমূল সরকার বাড়ি তৈরির  টাকা পৌঁছে দেবে।’


    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আবাস প্লাসের চূড়ান্ত তালিকা বা ‘পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্টে’ (পিডব্লুএল) নাম রয়েছে ৩৪ লক্ষ উপভোক্তার। এর মধ্যে ২০২২-এর ডিসেম্বরে ১১ লক্ষ এবং ২০২৪-এর জুনে আরও তিন লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কিন্তু এক টাকাও দেয়নি। তাই প্রথম ধাপে ১১ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম পর্যায়ের টাকা দেওয়া শুরু হবে। ধীরে ধীরে তালিকাভুক্ত সবার কাছেই টাকা পৌঁছে যাবে। ওই তালিকা ধরে উপভোক্তাদের বর্তমান পরিস্থিতি যাচাইয়ের কাজ শুরুও করে দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর।


    এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার পরতে পরতে চমক ছিল। তিনি ঘোষণা করেন, পুজোর পরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং বিধবা ভাতা প্রকল্পে নতুন উপভোক্তাদের যুক্ত করা হবে। ‘দুয়ারে সরকার’ ছাড়াও সারা বছরই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করা যায়। বর্তমানে ২ কোটি ১৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার পর থেকে এই খাতে রাজ্যের কোষাগার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলার প্রতি কেন্দ্রের ‘দুয়োরানি’ সুলভ আচরণের পরও গত ১৩ বছরে পশ্চিমবঙ্গে দারিদ্রের হার ৫৭.৬০ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশ হয়েছে। আগামী দিনে তা শূন্যে নেমে আসবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রত্যয়ী মমতা। 
  • Link to this news (বর্তমান)