• কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টিতে প্রেমানন্দের ছাতা যেন বটবৃক্ষ
    বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
  • অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: প্রখর রোদ্দুর! শরীরে যেন বিঁধছে তিরের ফলার মতো। সানগ্লাস, টুপি পরে ঘাম মুছতে মুছতে মিছিলে পা মিলিয়ে এগচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। হঠাৎ রোদ্দুর উধাও! শুরু হল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ছাউনির নীচে দাঁড়াতে তখন দৌড় প্রতিযোগিতা। শহরে আগতদের এই রোদ-বৃষ্টি থেকে রেহাই দিতে শিয়ালদহ স্টেশনে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন ৬৫ বছরের প্রেমানন্দ বিশ্বাস। ২১ জুলাইয়ের সকালে কেনা তাঁর হাতে বিশালাকার ছাতা (গার্ডেন আমব্রেলা)। একসঙ্গে ১০-১২ জন দিব্যি দাঁড়িয়ে পড়ছেন। কেউ রোদ্দুর এড়াতে, কেউবা বৃষ্টি। প্রেমানন্দের ক্লান্তি নেই। স্টেশনের বাইরে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে তিনি যেন ‘বটবৃক্ষ’।


    নদীয়ার ধানতলার বাহিরগাছিতে বাড়ি প্রেমানন্দবাবুর। তিনি ২১ জুলাইয়ের অতি পরিচিত মুখ। কারণ, প্রতি বছরই তিনি ট্রেনে চেপে শহিদ সমাবেশে যোগ দিতে আসেন। এদিন সাত সকালেই তিনি চলে আসেন শিয়ালদহে। নিজে হাতে করে এনেছিলেন ছোট ছাতা। কিন্তু, তা দিয়ে তো সবার মাথা আড়াল করা সম্ভব নয়, তাই সামনের বাজার থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে একটি বড় গার্ডেন আমব্রেলা কেনেন। সেই ছাতা মেলে তিনি দাঁড়িয়ে পড়েন স্টেশনের সামনে। কারণ, সেই সময় প্রচুর রোদ্দুর ছিল। ট্রেন থেকে নেমে অনেকেই তাঁর ছাতার তলায় দাঁড়িয়ে জল খাচ্ছিলেন। তারপর একটু জিরিয়ে রওনা দিচ্ছিলেন গন্তব্যে। 


    ১১টার পর আচমকা বৃষ্টি। কর্মীরা তখন হুড়োহুড়ি করে ঢুকে পড়েন স্টেশনের ভিতর। বাইরে তখনও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে প্রেমানন্দবাবু। তাঁর ছাতার তলায় তখন অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন। বৃষ্টি পড়েছে বেশ কিছুক্ষণ। ততক্ষণ তিনি দাঁড়িয়েই ছিলেন। তারপর রওনা দেন ধর্মতলার দিকে। কাঁধে ছাতা নিয়েই হন হন করে এগিয়ে যান। প্রেমানন্দবাবু বলেন, ‘আমরা মাঠে চাষ করি। অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম, একটা বড় ছাতা কিনব। কিন্তু, কেনা হয়নি। এদিন ভাবলাম, কর্মীদের সাহায্য করা হবে এবং আমারও কাজ হবে। তাই এদিন এসে কিনে ফেললাম। অনেকের উপকার হয়েছে। এবার মাঠের কাজে লাগবে। এই রোদে কাজ করা মুশকিল। তাই ছাতার তলায় বসে মাঝে মাঝে জিরিয়ে নেব।’


    তিনি বলেন, ‘আমি তো দিদির সঙ্গে কংগ্রেস করতাম। দিদি নতুন দল তৃণমূল করার সময় আমরাও তৃণমূল হয়ে গেলাম। সেই থেকে জোড়াফুলের কর্মী। প্রতিবার ২১ জুলাই আসি। আগামী দিনেও আসব। দিদি তো নিজেই একটা বিশাল ছাতা হয়ে আমাদের সবাইকে আগলে রেখেছেন। আমি একটা ছাতা দিয়ে কয়েকজনকে আগলেছি মাত্র। এ আর এমন কী! চলি, এখনও অনেকটা হাঁটতে হবে....।’ ধীরে ধীরে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলেন তিনি। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)