রাজ্য সরকারি কর্মীদের মেডিক্যাল সেলে এবার নিজস্ব ডাক্তার নিয়োগ
বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্য প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিক্যাল সেলে এই প্রথম একজন চিকিৎসককে আনা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের চাকরি থেকে অবসর নেওয়া এক চিকিৎসককে একবছরের চুক্তিতে মেডিক্যাল সেলে নিয়োগ করা হবে। রাজ্য কর্মীদের স্বাস্থ্য প্রকল্পটি কয়েকবছর আগে চালু হলেও মেডিক্যাল সেলে কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। চিকিৎসা খরচের বিল জমা পড়ার পর তাতে কোনও জটিলতা থাকলে একটি বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এই কমিটিতে স্বাস্থ্যদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার আছেন। এবার একই কাজের জন্য অর্থদপ্তরও সরাসরি চিকিৎসক রাখছে। কর্মী মহলের আশা, সেলে একজন চিকিৎসক থাকলে মেডিক্যাল বিল পাশ করানোর কাজে বিশেষ গতি আসবে এবং কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন।
সরকারি কর্মী ও পেনশন প্রাপকরা সপরিবারে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পান। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে নথিভুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো যায়। ইন্ডোর এবং আউটডোর বিভাগে চিকিৎসা করানোর সুযোগ মেলে এই প্রকল্পে। এই প্রকল্পে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসার সুবিধা মেলে। অর্থাৎ চিকিৎসার খরচ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
হলে বেনিফিসিয়ারিকে হাসপাতালে কোনও বিল মেটাতে হয় না। চিকিৎসা খরচ তার বেশি হলে ২ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যে খরচ হয়েছে, হাসাপাতালে তার বিল মেটাতে হয় নথিভুক্ত বেনিফিসিয়ারিকে। এই অতিরিক্ত খরচের বিল পেশ করতে হয় সরকারের কাছে। ওই বিল খতিয়ে দেখে বাকি টাকা তাঁকে দেওয়া হয়। সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের খরচের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। ফলে ২ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত সমস্ত খরচই বেনিফিসিয়ারিরা পেয়ে যান।
কিন্তু কর্মী মহলের অভিযোগ, বিল পেশ করার পর টাকা পেতে অনেক সময় দেরি হচ্ছে। দাবিমতো অতিরিক্ত নথিপত্র দিয়েও কিছু ক্ষেত্রে এই দেরি হয়। ফলে প্রচুর টাকা খরচ করে চিকিৎসার পর সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। অর্থদপ্তর সূত্রের খবর, অতিরিক্ত খরচের টাকার অঙ্ক ১ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে কর্মীর অফিস থেকেই তা পাস হয়ে যায়। কিন্তু অঙ্কটি তার বেশি হলে বিল যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবালয়ে। সচিবালয় অনেকসময় বিলের ফাইল পর্যালোচনার জন্য অর্থদপ্তরের মেডিক্যাল সেলে পাঠায়। মেডিক্যাল সেল বিলগুলি এতদিন বিশদ পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠাত। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, এবার সেলের নিজস্ব চিকিৎসক থাকায় ওই বিল পরীক্ষা অনেক দ্রুত হবে। গতি আসবে টাকার অনুমোদনেও।