দেশজুড়ে সাইবার জালিয়াতির পান্ডাকে ওড়িশার জেল থেকে আনল লালবাজার
বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে এবং বিনিয়োগের টোপ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দেশজুড়ে সাইবার জালিয়াতির পান্ডাকে ওড়িশার জেল থেকে নিয়ে এল লালবাজার। ধৃত ডেনজো ওরফে বসের বিরুদ্ধে একশোর বেশি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে পাওয়া টাকা সে নিজের অ্যাকাউন্টেই জমা করত। প্রতারণার শিকার হওয়া কলকাতার এক বাসিন্দার ২১ লক্ষ টাকা ডেনজোর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তদন্তের জন্যই তাকে ভুবনেশ্বর জেল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে অভিযোগকারী টেলিগ্রামে অ্যাপে একটি মেসেজ পান। তাতে উল্লেখ করা হয় শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে বিপুল পরিমাণ রিটার্ন মিলবে। কোন কোন কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করলে লাভজনক হবে, তারও উল্লেখ করা হয় ওই মেসেজে। অভিযোগকারী আগ্রহ দেখালে তাকে অন্য একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে ছদ্মবেশী প্রতারকরা জানায়, তারা টাকা বিনিয়োগ করে কত টাকা লাভ করেছে। তাই দেখে উৎসাহিত হয়ে লাভের আশায় অভিযোগকারী ২১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও টাকা না মেলায় তিনি ওই গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ঘোরানো হয়। পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই অভিযোগ জানান লালবাজারে।
অভিযোগকারী যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছিলেন, তার নথি বের করা হয়। সেটি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখেন, ডেনজো নামের এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ওই টাকা গিয়েছে। জানা যায়, ডেনজো এই চক্রের মূল মাথা। সে আসলে ত্রিপুরার বাসিন্দা। এই অভিযুক্ত গোটা দেশে সাইবার জালিয়াতি চালাচ্ছে। শুধু বিনিয়োগের নামে প্রতারণা নয়, ভুয়ো সিবিআই বা ইডি অফিসার কিংবা এনসিবি কর্তা পরিচয় দিয়েও লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতাচ্ছে সে। ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে নোটিস পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নামে। লালবাজারের আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, ওড়িশা, কর্ণাটক, তামিলনাডু, দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে সাইবার জালিয়াতি করে কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেছে সে। কলকাতা পুলিস ছাড়াও তাকে খুঁজছে অন্য রাজ্যের পুলিস। এর মাঝে জুন মাসে ডেনজো ওড়িশায় সাইবার প্রতারণা মামলায় ধরা পড়ে। তাকে জেরা করে ভুবনেশ্বর পুলিস জানতে পারে, সে একটি চক্র গড়ে এই কারবার চালাচ্ছে। লালবাজারের কাছে তার গ্রেপ্তারির খবর পৌঁছনোর পর ওড়িশা আদালতের অনুমতি নিয়ে ভুবনেশ্বরের জেলে গিয়ে তাকে জেরা করেন গোয়েন্দারা। তার জড়িত থাকার বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর আদালতের অনুমতি নিয়ে ডেনজোকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। রবিবার ডেনজোকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে পুলিসি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।