বারাসত শহরে সরকারি জায়গায় রাজনৈতিক দলের অফিস, বিতর্ক
বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও সরকারি জায়গায় রয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়। আর এক্ষেত্রে বাদ নেই কেউ। কংগ্রেস কার্যালয়ের পাশেই রয়েছে তৃণমূল কার্যালয়। আর ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লকের পার্টি অফিস। এই তিন পার্টি অফিস থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে সিপিএমের অফিস। বারাসত পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিধানপার্ক এলাকায় এই রাজনৈতিক দখলদারি নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত পুরসভার ১৬ নং ওয়ার্ডের বিধানপার্ক এলাকায় রাস্তার পাশে ১৯৯৪ সাল নাগাদ কংগ্রেসের কার্যালয় গড়ে ওঠে। পরে তৃণমূল দল গঠন হলে পাশেই তৈরি হয় জোড়াফুলের কার্যালয়। ফরওয়ার্ড ব্লকের কার্যালয় তৈরি হয় ২০০২-০৩ সালে। পাশেই থাকা সিপিএমের কার্যালয়টিও বেশ পুরানো। আর এই চারটি রাজনৈতিক দলের অফিস ইটের দেওয়ালের হলেও ছাউনি অবশ্য টিনের।
সম্প্রতি বারাসতের হাটখোলায় সরকারি জমি দখল করে শাসকদলের পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। পরে সেখানে সরজমিনে তদন্তে যান ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা। তবে অবস্থার বদল হয়নি। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অরুণকুমার দেবনাথ বলেন, পার্টি অফিসটি সরকারি জমির মধ্যে নেই। বহু বছর আগে ওখানে ফাঁকা জমি ছিল। সেই জমির পাশেই পার্টি অফিস গড়ে তোলা হয়। তবে জমি কার তা জানা নেই। এদিকে ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরসভা থেকে অনুমতি নিয়েই আমরা আমাদের পার্টি অফিস তৈরি করেছি। তবে সরকার যদি অন্য কোনওরকম সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা মানতে হবে। সিপিএম নেতা আহমেদ আলি খান বলেন, সরকারি কিংবা অন্য কারও জমিতে দলীয় কার্যালয় তৈরি করার অনুমোদন দেয় না পার্টি। যদি কোথাও এরকম হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।
অন্যদিকে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা অতনু ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর মানুষের জন্যই নির্দেশ দিয়েছেন। আসলে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের বসার কোনও জায়গা না থাকায় আমিই উদ্যোগ নিয়ে তৎকালীন পুর-কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে পার্টি অফিস তৈরি করি। স্থানীয় কাউন্সিলার নীলিমা মণ্ডল বলেন, জমিটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেই। তাই বলতে পারব না।