বিরিয়ানি-মুরগির ঝোল-খিচুরির গন্ধে দিনভর ম ম শহরের বাতাস
বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
অর্ক দে, কলকাতা: সকাল আটটা। শিয়ালদহে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড বাসমতি চাল সিদ্ধ হওয়ার গন্ধে ম ম করছে। পাশে ডুমো ডুমো করে আলুকাটা চলছে। ডাঁই করে রাখা মুরগির বড় বড় পিস। কতরকমের মশলা রাখা থালায় সাজিয়ে। বোঝা গেল, চিকেন বিরিয়ানি হবে। পার্ক স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে গাড়ি। তাতে রাখা হাঁড়ি ভর্তি ভাত, মুরগির লাল টকটকে ঝোল। পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাতজুড়ে ত্রিপল খাটিয়ে বসে পড়লেন সবাই। পাত পেড়ে, পেট পুরে চলল খাওয়া-দাওয়া। একুশের সমাবেশে যাওয়ার আগে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা শোনার আগে শহরজুড়ে চলল পেটপুজো। কোথায়ও বিরিয়ানি তো কোথাও মাংস-ভাত। কেউ কেউ খিচুড়ি তো কেউ কেউ ভাত-ডাল-তরকারি-ডিমের দম। শিয়ালদহ কিংবা সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, পার্ক স্ট্রিট বা রাসেল স্ট্রিট, রবীন্দ্র সদন বা বাইপাস রবিবার শহরের বিভিন্ন রাস্তা যেন রান্নাঘর।
শহরের সর্বত্র রাস্তার ধারে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে জেলা থেকে আসা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাস। আর বাসের আড়ালে দুপুরের খাবারের আয়োজন। প্রতি বছরই একুশে জুলাই ধর্মতলা, শিয়ালদহ, পার্ক স্ট্রিট বা সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর ছবিটা এমন থাকে। নদীয়া, হুগলি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে আশা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাস এই সমস্ত অঞ্চলে বিভিন্ন রাস্তার ধারে পার্ক করানো হয়। একপক্ষ ছোটে সভাস্থলে। অন্যপক্ষ সকাল সকাল খাবারের আয়োজনে নেমে পড়ে। মেনু রকমারি। ডিম-ভাত বা শুধুই মুরগির ঝোল-ভাত। কোথাও খিচুড়ি। হুগলির মানকুণ্ডু থেকে আসা শ্যামল জানা বলেন, ‘ভাত, ডাল, পাঁচ-মিশালি তরকারি ও ডিমের ঝোল। সকাল সকাল রান্না হচ্ছে। বেলা বাড়লেই রাস্তাতে পাত পড়বে।’ রান্নাবান্নার ফাঁকে চলছে তাস পেটানো। রাজনীতির গল্পগুজব। বিজেপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা।
এদিন ধর্মতলার রাজপথ ও ফুটপাতের দখল নিয়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষরা। কোনও দল রান্না করেও এনেছিলেন খাবারদাবার। গাড়িতেই সুগন্ধ ছড়াচ্ছে হাঁড়ি ভর্তি ভাত আর মুরগির মাংস। যাঁরা ফুটপাতে বসে খাওয়ার জায়গা পেলেন না, তাঁরা নির্দ্বিধায় বসে পড়লেন রাস্তার উপর। পার্ক স্ট্রিট ফ্লাইওভারের নীচেও চলল খাওয়া-দাওয়া। ডোমজুড়, নেপালগঞ্জ, সোনারপুর, গড়িয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকে এসেছিলেন এই মানুষগুলি। বাঁকুড়ার কৃষক সন্তু মান্না বললেন, ‘দিদিকে ভালোবাসি। এর বেশি কিছু নয়। তাই এসেছি। আমরা রান্না করেই এনেছিলাম। ভাত আর মুরগির মাংস। এখানে এসে শসা কাটা হল।’ হাওড়ার এক গাড়িচালকের কথায়, ‘দিদি আমাদের কথা ভাবেন। ওঁকে দেখার জন্যই প্রতিবছর আসি।’
পার্ক স্ট্রিট শুধু নয়, রাসেল স্ট্রিট, লিটল রাসেল স্ট্রিটের ফুটপাতেও একই চিত্র। মাঝে মধ্যেই বাধা হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি। তার জন্যও ছিল ব্যবস্থা। ত্রিপল আর বাঁশ নিয়ে এসেছিলেন অনেকে। মাটাডোরে ত্রিপল খাটিয়ে তার নীচে চলল খাওয়া-দাওয়া।
এরই মধ্যে যন্ত্রণা বাড়াল এঁটো কাগজের থালা-গ্লাস-বাটি। রাস্তাতেই ফেললেন অনেকে। কেউ কেউ আবার বস্তায় ভরে ফেললেন এক ধারে। কলকাতা পুরসভার সাফাইকর্মীরা তৎপর ছিলেন দিনভর। তাঁরা তোলার কাজ করে গেলেন সারাক্ষণ।