শ্যামপুরে জেঠতুতো দাদাকে খুনের অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত ভাই
বর্তমান | ২২ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বাড়িতে ঢোকার রাস্তা নিয়ে বিবাদ। তারই জেরে জেঠতুতো দাদাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার শ্যামপুর থানার বাছরি গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁপাবাড় গ্রামে। মৃতের নাম জিয়াউল খান (৪৬)। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত রাজা খানের বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও ঘটনার পর থেকে রাজা পলাতক। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে শ্যামপুর থানার পুলিস।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটি কমন প্যাসেজ। এই অংশটি নিয়েই জিয়াউল খানের সঙ্গে তাঁর খুড়তুতো ভাই রাজা খানের দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। জিয়াউলের অভিযোগ, কমন প্যাসেজের একাংশ দখল করে রেখেছে রাজাদের পরিবার। সেই অংশ ছেড়ে দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছিলেন জেঠতুতো দাদারা। সমস্যার সমাধানে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী মধ্যস্থতা করতে আসেন। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ বাড়িতেই তাঁর উপস্থিতিতে এক বৈঠক হয়। অভিযোগ, বৈঠক শেষে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আলোচনার সময় সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় রাজা আচমকা ছুরি বের করে জিয়াউলকে কোপাতে থাকে। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী, ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাঁদেরও রাজা ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। চারজনই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রাজা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রাই আহত চারজনকে উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জিয়াউল খানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জিয়াউল খানের স্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাজা খানের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস।