শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার বক্রেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালতে ব্যাপক ভিড়
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারই সতীপীঠ বক্রেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালতে ভিড় উপচে পড়ল। এদিন ভোর থেকে মন্দিরের সামনে পুরুষ ও মহিলাদের লম্বা লাইন পড়ে যায়। কেউ কেউ ভিনজেলা থেকেও এদিন কাঁধে বাঁক নিয়ে জল ঢালতে এসেছিলেন। হিসেব অনুযায়ী, প্রথম সোমবারই প্রায় পাঁচ হাজার ভক্ত সমাগম হয়েছিল। মাসের বাকি দিনগুলিতে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হওয়ার আশা করছেন সেবাইতরা। এইসময় সিউড়ি-বক্রেশ্বর রাস্তার উপর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠছে।
প্রতিবারই শ্রাবণ মাস পড়তে মহাদেবের ভক্তরা মন্দিরে জল ঢালতে ভিড় করেন। এই চেনা ছবি এবারও একইভাবে ধরা দিচ্ছে। বক্রেশ্বর সতীপীঠের শিবমন্দিরে জল ঢালার ধুম থাকে শ্রাবণের গোটা মাস ধরেই। বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকেও ভক্তরা এখানে ভিড় জমান। এমনকী নেপাল থেকেও ভক্তদের আসতে দেখা যায়। এবার রবিবার রাতেও অনেকে জলের বাঁক নিয়ে মন্দিরে হাজির হয়ে যান। দেখা যায়, ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বাঁক কাঁধে নিয়ে ভক্তরা বক্রেশ্বরের দিকে যাচ্ছেন। রাতের দিকেও তাঁরা হাঁটতে হাঁটতে মন্দিরের উদ্দেশে যান। মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে আসা এক ভক্ত শিবাজি সরকার বলেন, কান্দির কানা ময়ূরাক্ষী থেকে জল নিয়ে গোটা রাস্তা হেঁটে এসেছি। ৬০ কিমি রাস্তা একদিনের মধ্যেই টানা হেঁটেছি। তবে মাঝে বেশ কয়েকবার দাঁড়িয়েছি। আগের দিন রাতেই মন্দিরের কাছে এসে বসেছিলাম। সোমবার ভোরে মন্দিরে জল ঢেলেছি। প্রতিবছরই আমরা দল বেঁধে বক্রেশ্বরে বাবা মহাদেবের কাছে আসি।
এদিন মহিলা ভক্তদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। সকলে লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দিরের গেটে প্রবেশ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মন্দিরের সেবাইতদের দাবি, যেভাবে প্রথম সোমবারই ভিড় হল, তাতে বাকি মাসে ভিড় উপচে পড়বে। সেই কারণে প্রশাসনের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। বিশেষ করে মন্দির চত্বর সংলগ্ন এলাকায় একটি মেডিক্যাল টিম সর্বক্ষণ থাকলে ভক্তদের জন্য ভালো হয়। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু মিলবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা প্রয়োজন। কারণ ভক্তদের হেঁটে আসার অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে জলের চাহিদা থাকে অতিমাত্রায়। এর পাশাপাশি বক্রেশ্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা যতটা সম্ভব যানজটমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করলে ভক্তদের পারাপারে সুবিধা হয়। মন্দিরের সেবাইত মনোরঞ্জন আচার্য বলেন, প্রথমদিন ভালোই ভিড় হয়েছে। এদিন প্রায় পাঁচ হাজার ভক্ত এসেছিলেন। সবকিছুই সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই চলছে। পুজোর ফুল সরিয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে মন্দিরের যাবতীয় ব্যবস্থা দায়িত্ব অনুযায়ী সকলে করছেন। প্রশাসন আরও সহযোগিতা করুক সেটাই চাইব।
অন্যদিকে, সিউড়ি-বক্রেশ্বর রুটে যেভাবে ভক্তরা রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছেন, তাতে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন অনেকেই। বিশেষ করে রাতের দিকে লরি, ট্রাকের গতি যাতে এই রুটে কমে সেদিকেও পুলিসের নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠছে। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটা এড়ানো যাবে। শিবভক্তদের গোটা শ্রাবণ মাসজুড়েই গন্তব্য হতে চলেছে বক্রেশ্বর মন্দির।