সংবাদদাতা, কাঁথি: খরা কাটিয়ে একটু একটু করে ইলিশের আগমন ঘটছে দীঘায়। গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জালে প্রায় সাত টন ইলিশ উঠেছে। তা দীঘা মোহনার পাইকারি বাজারে নিলাম হয়েছে। এর ফলে মৎস্যজীবী তথা মৎস্য ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। কারণ, জালে ইলিশ উঠলে তাঁদের বেশ কিছুটা রোজগার হবে। তবে, বাজারে ইলিশের যা দাম, তা আমবাঙালির সাধ্যের বাইরে। দু’মাসের ব্যান পিরিয়ড কাটিয়ে গত ১৫ জুন থেকে মাছ ধরার মরশুম শুরু হয়েছে। এতদিন মৎস্যজীবীদের জালে পমফ্রেট সহ অন্যান্য মাছ উঠলেও ইলিশ খুবই কম পরিমাণ উঠছিল। দীঘা, কাঁথি সহ সর্বত্র উপকূলের মৎস্যজীবীদের আক্ষেপ করেই দিন কাটছিল। এবার একসঙ্গে অনেকটা ইলিশ ওঠায় আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন মৎস্যজীবীরা। মূলত ঝিরঝিরে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আর পূবালি হাওয়ায় ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়ে। আগামী কয়েকদিন এই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকলে ইলিশের খরা অনেকটাই কাটবে বলে মৎস্যজীবীরা মনে করছেন। জোগান বাড়লেই দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেদিকেই এখন হাপিত্যেশ করে তাকিয়ে বসে রয়েছেন ইলিশপ্রিয় বাঙালি।
উল্লেখ্য, পূর্ণিমা কোটালের জেরে নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্যদপ্তর। তারজন্য ট্রলারগুলি শুক্রবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত বন্দর ও মৎস্য আহরণ কেন্দ্রগুলিতে ভিড়তে শুরু করে। তারাই ওই পরিমাণ ইলিশ নিয়ে এসেছে। চলতি মরশুমে একসঙ্গে এত পরিমাণ ইলিশ আসায় রবিবার দীঘা মোহনার পাইকারি বাজারে মৎস্যজীবীদের মধ্যে ছিল খুশির হাওয়া। মোহনা বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮০০থেকে ৮৫০টাকা কেজি দরে। ৭০০থেকে ৮০০গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১০০০-১১০০টাকা কেজি দরে। তবে এক কেজি ওজনের ইলিশের দর দেড় হাজার থেকে ১৮০০টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সেই ইলিশ কলকাতা সহ বড় বড় বাজারে গিয়েছে।
মৎস্যজীবীরা বলছেন, মাছ ধরার মরশুম শুরু হওয়ার পরই একাধিকবার নিম্নচাপের সতর্কতার জেরে সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। তার উপর সম্প্রতি উপকূলে বিমান মহড়ার জন্য দু’দফায় ছ’দিন মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তার মধ্যে আগেই মৎস্যজীবীদের জালে ধরা দিচ্ছে রুপালি শস্য। যা খুশির খবর।
দীঘা-শঙ্করপুর ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় প্রায় সমস্ত ট্রলার-লঞ্চ ঘাটে ফিরে এসেছিল। সবগুলিতেই কমবেশি ইলিশ উঠেছে। গত কয়েকদিনে কমবেশি ইলিশের আমদানি হয়েছে দীঘা মোহনায়। তবে কখনও আবহাওয়ার কারণে, কখনও ডিআরডিওর বিমান মহড়ার কারণে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উঠলে ট্রলারগুলি সমুদ্রে নামবে। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েকদিন ইলিশের আমদানি আরও বাড়বে। তখন দাম কমবে।
দীঘা মোহনার এক আড়তদার তথা মৎস্যজীবী সংগঠনের সহ-সভাপতি নবকুমার পয়ড়্যা বলেন, দীঘায় অতীতে যে পরিমাণ ইলিশ উঠেছে, সেখানে এই পরিমাণ ইলিশ যৎকিঞ্চিৎই বলা চলে। এই পরিমাণ ইলিশের বাঙালির রসনা পূরণ হওয়ার মতো নয়। অন্তত ৫০ থেকে ৬০টন ইলিশ যদি আমদানি হয়, তাহলে পূর্ব মেদিনীপুর তথা বাংলার সব প্রান্তে ইলিশ পৌঁছনো সম্ভব। সেক্ষেত্রে একমাত্র প্রকৃতি সহায় হলে কিংবা আবহাওয়া বর্ষামুখর হলে তা সম্ভব হবে। তখন খরা কাটিয়ে বাঙালির পাতে দেদার ইলিশ পড়বে। আমরা চাইছি, এরকম আবহাওয়াই বজায় থাকুক।