• গৃহবধূর নলিকাটা দেহ উদ্ধার, হদিশ নেই প্রেমিক ও স্বামীর, প্রেমের টানেই ঘর ছেড়ে ছিলেন বিবাহিত সাবিনা
    বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: প্রেমের টানেই নিজের থেকে আট বছরের ছোট যুবকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন বিবাহিত সাবিনা। স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়েই তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন। গত রবিবার দুপুরে সেখান থেকেই সাবিনা বেগমের নলিকাটা দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই তাঁর প্রেমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সাবিনার স্বামীও ‘উধাও’। দু’জনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।


    প্রসঙ্গত, রবিবার আরামবাগ শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ফ্ল্যাট থেকে বছর সাতাশের সাবিনার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শিশুকন্যাকে টানা কাঁদতে দেখে প্রতিবেশীরা সাবিনার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। অনেকেই মনে করছেন, দেড় বছরের শিশুর সামনেই সাবিনাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। গৃহবধূর মা থানায় খুনের অভিযোগ জানিয়েছেন।


    জানা গিয়েছে, সাবিনার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর-২ ব্লকের জোতকানুরামগড়ের শেখ শহিদুলের ১০বছর আগে বিয়ে হয়। বধূর বাপেরবাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের এক বছর পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে সাবিনার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সহিদুলের মামাতো ভাই মোতালেব হকের সঙ্গে সাবিনার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হলে পরিবারে অশান্তি চরম আকার নেয়। পরিবারের তরফে সমস্যা সমাধানে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। তিনমাস আগে সাবিনা শিশুকন্যাকে নিয়ে আরামবাগ শহরের আজাদপল্লিতে মায়ের কাছে চলে আসেন। কিছুদিন থাকার পর কন্যাসন্তানকে নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। ১৬জুলাই থেকে বছর উনিশের প্রেমিক মোতালেবের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন।


    সাবিনার মামা গিয়াসউদ্দিন খান বলেন, পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়। আবার মিটেও যায়। আমরা অশান্তি মেটানোর সবরকম চেষ্টা করেছিলাম। তিনমাস আগে সাবিনা তার মেয়েকে নিয়ে বাপেরবাড়ি চলে আসে। আলাদা থাকবে বলে বাড়ি খুঁজছিল। মোতালেব হককে স্বামীর পরিচয় দিয়ে এনায়েতপল্লিতে থাকছিল কি না, তা আমাদের জানা নেই। শিশুকন্যার সামনে মাকে এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত। পুলিস দোষীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক। 


    বাড়ির মালিক কামাল হোসেন বলেন, সাবিনা বাড়ির ভাড়ার জন্য প্রথমে আমাকে ফোন করেছিল। গাড়ি করে নিজেই জিনিসপত্র এনেছিল। শেখ মোতালেবকে নিজের স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছিল। শনিবার রাতে দু’জনে এক সঙ্গেই ছিল। রবিবার সকালে মোতালেব কাজে বেরিয়ে যায়। তারপর আর দেখা যায়নি।


    পুলিসের অনুমান, পরিচিত কেউ সাবিনাকে খুন করেছে। স্ত্রীর পরকীয়া মেনে নিতে না পেরে সহিদুল তাঁকে খুন করল নাকি প্রেমের সম্পর্কের টানা পোড়েনের জেরে সাবিনা খুন হল, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর থেকেই মৃতার স্বামী ও প্রেমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে ওই দু’জনের উপর পুলিসের আরও সন্দেহ বেড়েছে। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত রহস্যের কিনারা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)