• জমি ফেরানোর নির্দেশ কার্যকর হয়নি, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন জমিহারারা
    বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: রবিবার, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে দুর্নীতি মুক্ত দল ও প্রশাসন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই আশ্বাসে কিছুটা বুক বেঁধেছেন পাড়ুই থানার জমিহারা কৃষকরা। শান্তিনিকেতনের কোপাই নদী সংলগ্ন একটি বেসরকারি আবাসনকে জমিহারাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু তা এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। এর প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে এবার তাঁকেই চিঠি লিখে জমি উদ্ধারের আবেদন করলেন সরপুকুরডাঙার জমিহারা কৃষকরা। আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ধর্না দশম দিনে পা দিল। অভিযোগ, গত চার বছর ধরে ওই জমিতে চাষ করা যায়নি। সরকার তাঁদের জমি উদ্ধার করে এ বছর চাষবাসের ব্যবস্থা করে দিক। নচেৎ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জমিহারা কৃষকরা। 


    প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতনের কোপাই নদী সংলগ্ন বেসরকারি আবাসনের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব স্থানীয় আদিবাসী কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি পাট্টা ও বর্গাকৃত জমি দখল করে বেসরকারি আবাসন স্থলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আবাসন প্রকল্পটি পাড়ুই থানার সাত্তোর গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা এলাকায় রয়েছে। 


    প্রথম পর্যায়ে ওই আবাসন সংস্থা সেখানে ৫২ বিঘা জমিতে মোট ২০০টি বিলাসবহুল কটেজ তৈরি করে। সেগুলো বিক্রি হওয়ার পর পুনরায় লাভের আশায় দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করে ওই সংস্থা। সেখানেই বিতর্কের সূত্রপাত। আদিবাসীদের দাবি, যে ২২ বিঘা জমিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে, তা তাঁদের কাছ থেকে কার্যত ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই আদিবাসীরা বীরভূমের জেলাশাসক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাছে অভিযোগ করেন। এরপরেই প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়ে ওই বেসরকারি সংস্থাকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলে। 


    পাশাপাশি, জমির প্রকৃত মালিক কে, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন জেলাশাসক। তার প্রেক্ষিতে এডিএম (এলআর) অসীম পালের নেতৃত্বে ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টির তদন্ত শুরু করে একটি রিপোর্ট তৈরি করেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই জমি ‘ভেস্টেড ল্যান্ড’ ঘোষণা করে সরকারি খাতে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। এরপর সংশ্লিষ্ট আবাসন ও তৎসংলগ্ন ১১. ৪১ একর জমি সরকারি খাতে নথিভুক্ত করে জেলা প্রশাসন। সেই জমি রেকর্ডের পর পাট্টা দিয়ে প্রকৃত জমিহারাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে প্রশাসন জানায়। কিন্তু তারপরেও ওই বেসরকারি সংস্থা প্রশাসনের নির্দেশ মানেনি বলে অভিযোগ। তার প্রেক্ষিতে গত দশদিন ধরে জমিহারা কৃষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় এবার তারা জমি ফেরত চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন। 


    জমিহারাদের পক্ষে আশিস ঘাটোয়াল, বুদি মুর্মু, লক্ষ্মণ সরেন, শ্যামলাল হাঁসদা বলেন, জমি দখল হওয়ার কারণে গত চার বছর ধরে চাষ করতে পারিনি। ফলে, আমাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এখন বর্ষাকাল চলছে, আমরা চাষ করতে চাই। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী। যদিও বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন বলে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি ওই আবাসন কর্তৃপক্ষ। 
  • Link to this news (বর্তমান)