লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দু’বার টাকা, মৃতদের অ্যাকাউন্টে বার্ধক্য ভাতা, কালনায় প্রশাসনের নোটিসে ফেরত প্রায় ৫ লক্ষ
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, কালনা: একই মহিলা দু’টি আইডি ব্যবহার করে দু’বার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। বৃদ্ধ-বৃদ্ধার মৃত্যু হলেও বছরের পর বছর বার্ধক্য ভাতা ঢুকছে অ্যাকাউন্টে। কেউ কেউ বার্ধক্য ভাতা ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দু’টি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কালনা-১ ব্লক ওয়েলফেয়ার দপ্তরের সরেজমিনে তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। তা প্রকাশ্যে আসতেই অনেকে টাকা ফেরত দিচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত কালনা-১ ব্লকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছেন উপভোক্তারা। রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদনে অনিয়মের অভিযোগও উঠছে। কারও এক বছর, কারও তিন বছর আগে বিয়ে হলেও কাগজপত্র জমা দিয়ে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাওয়ার আবেদন করছেন। আবেদন ভেরিফিকেশনে হাতেনাতে ধরা পড়ছেন অনেকে যুবতী। এতে উপভোক্তারা হুমকি দিচ্ছেন বলে আধিকারিকরা জানান।
ব্লক ওয়েলফেয়ার অফিসার সুদর্শন মজুমদার বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক বার্ধক্য ভাতা সহ অন্যান্য প্রকল্পের একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন এমন প্রাপকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। তা থেকেই উঠে আসছে নানা তথ্য। একসঙ্গে দু’টি প্রকল্পে ভাতা তুলছেন এমন প্রাপকদের শনাক্ত করে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই টাকা ফেরত দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বার্ধক্য ভাতা ঢুকছে। আমরা ব্যাঙ্ক থেকেও সেইসব টাকা রিকভারি করার চেষ্টা করছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন এমন মহিলা স্বামীকে মৃত দাবি করে বিধবা ভাতা তোলার চেষ্টা করেছেন, এমন বিষয়ও সামনে এসেছে। প্রশাসন আবেদন বাতিল করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। কালনা-১ ব্লকে এক মহিলা বার্ধক্যভাতা ও বিধবাভাতা একসঙ্গে পাচ্ছেন। তিনি আবার বয়স কমিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবেদন করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলছেন। ইতিমধ্যে তাঁকে শনাক্ত করে চিঠি পাঠিয়েছে ব্লক প্রশাসন। দু’টি আইডি ব্যবহার করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন কেউ কেউ। নূপুর হালদার নামে এক মহিলা ধরা পড়ে সাড়ে ১৩হাজার টাকা ব্লকে এসে জমা দিয়েছেন। নির্মল দাস, দুর্গা কবিরাজরা দু’-তিন বছর আগে মারা গেলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে বার্ধক্যভাতা ঢুকেছে। ব্লক প্রশাসন বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাঙ্ককে চিঠি করলে টাকা ফেরত এসেছে। এমন বেশকিছু মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বার্ধক্যভাতা ঢুকেছে। তা রিকভারির চেষ্টা করছে ব্লক প্রশাসন। বার্ধক্যভাতা ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন এমন অনেক প্রাপককে শনাক্ত করেছে প্রশাসন।
বিডিও সুপ্রতিক সাহা বলেন, ভিআরপি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও আশা কর্মীদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।