আসানসোলে ৯ লক্ষ জাল লটারি বাজেয়াপ্ত, দিল্লি যোগের দাবি ধৃতদের, তোলপাড়
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ন’টি বস্তায় অটো বোঝাই করে ন’লক্ষ নামী লটারির জাল টিকিট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রবিবার রাতে আসানসোলের কালীপাহাড়িতে পুলিসের নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ল। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দুই অভিযুক্ত জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক লটারির টিকিট এসেছিল দিল্লি থেকে। দেশের রাজধানী থেকে ট্রেনে আসানসোলে আনা হয় টিকিটগুলি। তারপর অটোবোঝাই করে পাণ্ডবেশ্বর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযুক্তদের এই বয়ানে মাথাব্যথা রেড়েছে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার। এতদিন মনে করা হতো বাংলার এই জাল লটারির টিকিট ঝাড়খণ্ডে ছাপা হয়। তা পাশ্ববর্তী রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে বাংলায় ঢোকানো হতো। কিন্তু এর জাল ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লিতেও। সেখানেও নকল লটারির টিকিট ছাপা হচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে তদন্তে। শুধু পুলিস নয়, জাল লটারি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডিও। লটারির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কর পায় রাজ্য সরকার। বহু দরিদ্র মানুষের ভাগ্যও খোলে। এই অবস্থায় বাংলার অর্থনৈতিক ক্ষতি করতেই কি টিকিট জালিয়াতি করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
লটারি নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। গোরু পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্তে এই লটারির নাম উঠেছিল। তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল লটারিতে এক কোটি টাকা জেতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক হয়। এই লটারি নিয়ে বিজেপিও প্রচার চালিয়েছে। গতবছর থেকেই জাল লটারি চক্রের হদিশ পাওয়া যায়। ওই নামী লটারির আদলে টিকিট ছাপা হয়েছে। কাগজে ছাপা নকল টিকিটটি অনেক বেশি উজ্জ্বল। প্রথমে শিল্পাঞ্চলে এই লটারি ঝাড়খণ্ড লটারি হিসেবে প্রচার করা হয়। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, এর কোনও বৈধ অনুমতি নেই। তারপরই শুরু হয় অভিযান। স্থানীয় বেশ কয়েকজন এজেন্টকে ধরার পরই জানা যায়, ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় এই জাল লটারি ছাপা হচ্ছে। বাংলা পুলিসের তথ্য নিয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিস একাধিক ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে বহু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে। তারপরও নকল লটারির রমরমা অব্যাহত। এরপরই পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকে জাল লটারি কাণ্ডে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। কিছুদিন আগে আরপিএফের হাতে কিছু জাল লটারির টিকিট ধরা পড়েছিল। তারপরই পুলিসের কাছে খবর আসে দিল্লি থেকে ট্রেনেই জাল টিকিট আসছে। সেইমতো আসানসোল দক্ষিণ ও আসানসোল থানার পুলিসের বিশেষ টিম গঠন করে কমিশনারেট। পুলিসের দাবি, স্টেশন থেকে সন্দেহভাজন অটোর পিছু ধাওয়া করা হয়। রবিবার রাতে নাকার কাছে গাড়িটি আটক করা হয়। তারপরই একের পর এক বস্তা উদ্ধার হয়।
পুলিস জানিয়েছে, ঘটনায় ধৃত দুই অভিযুক্ত আসানসোল রেলপারের রাজেন রজক ও মুর্গাশোলের চন্দন সাউ দিল্লি থেকে হাওড়াগামী পূর্বা এক্সপ্রেসে টিকিটগুলি আনা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। দিল্লি-কলকাতা শাখায় পূর্বা এক্সপ্রেস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। সেই ট্রেনেই এভাবে লক্ষ লক্ষ টিকিট চালান হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে যাত্রী মহলেও। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, আমরা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৯লক্ষ টিকিট উদ্ধার করেছি। ঘটনার সঙ্গে দিল্লির যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।