কচুরিপানার দাপটে বন্ধ হয়ে গেল চাঁদেরঘাট ফেরিঘাট, দুর্ভোগ
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
সংবাদদাতা, তেহট্ট: কচুরিপানায় আবদ্ধ হয়ে জলঙ্গির আরও একটি ফেরিঘাটে বন্ধ হল পারাপার। রবিবার রাত থেকেই চাঁদের ঘাট ফেরিঘাটে কচুরিপানা জমতে শুরু করে। তার জেরে সোমবার বন্ধ হয়ে যায় নৌকা চলাচল। এতে নিত্যযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া সহ সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফি বছর বর্ষায় জলঙ্গিতে জল বাড়লে এই সমস্যা দেখা যায়। এর স্থায়ী সমাধান হওয়া খুবই জরুরি। প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট-১ ব্লকের চাঁদেরঘাট গ্রাম জলঙ্গি নদী দ্বারা ঘেরা রয়েছে। সেই কারণে এই গ্রামের বাসিন্দাদের কোনও কাজে বাইরে যেতে হলে নদী পার হতে হয়। আর নদী না পেরলে প্রায় ১৫ কিমি ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয় তাঁকের। মানুষজনের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ইজারাদার ফেরিঘাটে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। সারা বছর জলঙ্গি নদীতে জল থাকে না। তখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করা যায়। সমস্যা তৈরি হয় নদীর জল বাড়লে। তখন নৌকার উপরেই ভরসা করতে হয়। কিন্তু, কচুরিপানার কারণে নৌকা চালানো যাচ্ছেন না। ফলে, ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাঁশের সাঁকো হওয়ায় বিভিন্ন ফেরিঘাটে কচুরিপানা আটকে থাকে। যখন জল বাড়ে তখন বাঁশের সাঁকো খুলে ফেলা হয়। ফলে সেই কচুরিপানা নদীতে ছড়িয়ে যায়। তাতে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কচুরিপানা যতক্ষণ না স্রোতের টানে সরে যাচ্ছে, ততক্ষণ ফেরি চালাচল বন্ধ থাকে।
বৃহস্পতিবার তেহট্ট ফেরিঘাট, রবিবার কুলগাছি ফেরিঘাট কচুরিপানার জন্য বন্ধ ছিল। এদিন চাঁদের ঘাট ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বৈরাগ্য বলেন, আমার নাতনি তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। ওকে দেখতে যাব বলে বাড়ি থেকে বের হই।
ফেরিঘাটে এসে দেখি কচুরিপানার জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন প্রায় ১৫ কিমি ঘুরে তেহট্ট ঘাট পার হয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। খুবই দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হল।
এক নিত্যযাত্রী বলেন, আমার অফিস কৃষ্ণনগরে। চাঁদেরঘাট ফেরিঘাট পার হয়ে দু’কিমি গেলে তরণীপুর। সেখান থেকে বাস ধরে কৃষ্ণনগর চলে যেতে পারি। তাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমন খরচ কম হয়।
এদিন দেবগ্রাম হয়ে যেতে হবে। সময়, খরচ দুটোই বেশি লাগবে। কবে যে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাব কে জানে। চাঁদেরঘাট ফেরিঘাটের ইজারাদার বলেন, যতক্ষণ না এই কচুরিপানা পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ নৌকা চালানো যাবে না। বিকেল পর্যন্ত নৌকা চালাতে পারিনি।