নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাংলাদেশে অশান্তির জেরে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ফেরার জন্য ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিল বিএসএফ। সেজন্য সীমান্তে বিএসএফ বিশেষ শিবির খুলেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের নথিপত্র যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। নদীয়া জেলার গেদে সীমান্ত দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভারতে আসছেন। এছাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদা সীমান্তও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হচ্ছে। ভারতীয়দের পাশাপাশি নেপাল, ভুটানের পড়ুয়ারাও বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করছে। সীমান্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তের জেরে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভালো হবে বলে অনেকে মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশে ফিরে বাংলাদেশের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছেন।
বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক এ কে আর্য বলেন, রাতের দিকে সীমান্তের ইমিগ্রেশন গেট বন্ধ রাখা হতো। তবে বাংলাদেশে অশান্তির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ভারতে চলে আসছেন। তাঁদের সুবিধার্থে আমরা ২৪ ঘণ্টাই গেট খোলা রাখছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
কোটা আন্দোলনে অশান্ত বাংলাদেশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক পড়ুয়া মারা গিয়েছেন। ঢাকা, রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গা আন্দোলন ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। গুজব রুখতে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। অশান্তি বন্ধে রাস্তায় সেনা নেমেছে। পুরো ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। আন্দোলনের জেরে কোটা উঠলেও তাতে ইতি টানতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা। বাংলাদেশ সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ঘোষণা করেছে। ফলে সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারত, নেপাল, ভুটানের শিক্ষার্থীরা ফিরে আসছেন।
কিন্তু অশান্তির জেরে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী এক্সপ্রেস বন্ধ আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সীমান্ত পারাপার করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেজন্য তাঁরা হাঁটাপথেই সীমান্ত পেরোচ্ছেন।
বিএসএফ জানিয়েছে, নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জের গেদে সীমান্ত দিয়ে ১৮-২১ জুলাইয়ের মধ্যে ৩৪৪জন শিক্ষার্থী ভারতে প্রবেশ করেছেন। যার মধ্যে ভারতীয় ৩০৯, বাংলাদেশি ৫ ও নেপালি পড়ুয়ার সংখ্যা ৩০। দক্ষিণবঙ্গের পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙা, গেদে ও মেহেদিপুর দিয়ে এখনও পর্যন্ত ১২০৮ শিক্ষার্থী ভারতে প্রবেশ করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে ফেরা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক ভারতীয় ছাত্র ওখানে মার খেয়েছেন। ভারতীয় দূতাবাসকে বলেও লাভ হয়নি। আমরা গাড়িতে করে সীমান্তে এসেছিলাম। সেখানে বিজিবি রাতে আশ্রয় দিয়েছিল। ভারতে প্রবেশ করে নিজেকে সুরক্ষিত মনে হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র