সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশন লাগোয়া রেলের জমিতে বহু পুরনো পুকুর বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষের দাবি, দিনের পর দিন পুকুরপাড়ে নির্মাণবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে পুকুরটি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই অভিযোগ পেয়ে এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ পুকুরটি তাদের জমিতে থাকার কথা স্বীকার করলেও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।
বোলপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মের পাশে একটি বহু পুরনো পুকুর রয়েছে। এই এলাকা বোলপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হলেও রেলের জমিতে পুকুরটি রয়েছে। অভিযোগ, পুকুরটি ধীরে ধীরে সুপরিকল্পিতভাবে বুজিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। পুকুরের প্রায় ৬০ শতাংশ ইতিমধ্যে বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুকুরের জল নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতেন। আগে সরকারি জলপ্রকল্প ছিল না। তখন পুকুরের জলেই রান্না হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে পুকুরের জল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ পুকুরটি ধীরে ধীরে বুজিয়ে দিচ্ছে।
অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় এই স্টেশন ঢেলে সাজা হচ্ছে। তার জন্য স্টেশন চত্বরের নানা জায়গায় কংক্রিটের নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে। অভিযোগ, সেই কংক্রিটের ভাঙা অংশ, ইট এনে এই পুকুরে ফেলা হচ্ছে। আবার আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির পর অপ্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী এনে পুকুরপাড়ে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পুকুর খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই ১০০দিনের কাজের প্রকল্পে বিভিন্ন জায়গায় নতুন পুকুর খনন ও পুরনো পুকুর সংস্কার হতো। কিন্তু এখন রেলের জমিতে থাকা বহু পুরনো পুকুরটি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দা শিবানী বীরবংশী, শান্তি বীরবংশী, মিন্টু বীরবংশী বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে বিভিন্ন কাজে পুকুরের জল ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন এটি নোংরা ডোবায় পরিণত হয়েছে। পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা দরকার। সংশ্লিষ্ট স্টেশনের ম্যানেজার এস কে সিং বলেন, বিষয়টি রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দেখাশোনা করে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তরফে এনিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বোলপুরের চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ বলেন, আমার ওয়ার্ডে পুকুর বুজিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে পরিদর্শন করেছি। এবিষয়ে রেল, ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক ও বিডিওর সঙ্গে কথা বলব। এটি পুকুর হিসেবে নথিভুক্ত থাকলে সেটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।