ভারতে দাম বৃদ্ধি কাশির সিরাপের, ওপারে পাঠালে মিলছে ৯০০ টাকা
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এবার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপেরও দাম বাড়াল দুষ্কৃতীরা। এপারে এক একটি সিরাপের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। ওপার বাংলায় পাঠালেই সেই সিরাপের বোতল পিছু দাম মিলছে ৯০০ টাকা করে। বাংলাদেশে অশান্তির সুযোগে মুর্শিদাবাদের পাচারকারীরা বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ওপার বাংলায় সীমান্তে নজরদারির অভাব থাকায় বাংলাদেশের মাদক কারবারিরা কাশির সিরাপ আমদানির জন্য সক্রিয় হয়েছে। এই সুযোগে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত থেকে সিরাপ পাচারে যুক্ত দুষ্কৃতীরা একলাফে অনেকটাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এক একটি সিরাপের বোতল পিছু দাম ছিল ২২০-২৫০ টাকা। এখন সেই দাম একলাফে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ টাকায়। ওপারে পাঠাতে পারলেই পাচারকারীদের মিলছে ৯০০ টাকা।
নির্বাচন মিটতেই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি থেকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার শুরু হয়। তারপর থেকে দাম বাড়ছে সিরাপের। মুর্শিদাবাদের রানিনগর ও সাগরপাড়া থানার বেশ কিছু গ্রাম এই সিরাপ পাচারের করিডর হিসেবে খ্যাত। নির্বাচনের সময় সীমান্তে কড়া পাহারা থাকায় গ্রামগুলি থেকে পাচার বন্ধ ছিল। তাই বাংলাদেশে ব্যাপক সিরাপের চাহিদা বেড়ে যায়। নির্বাচন মিটতেই পুরোদমে ময়দানে নেমে পড়ে দুষ্কৃতীরা। ধীরে ধীরে সিরাপের দাম বাড়িয়ে দেয় তারা।
সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর ও বারাণসীতে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত কোডাইন মিশ্রিত এই কাশির সিরাপ। যা শুধুমাত্র নেশার জন্য ব্যবহার হয় ওপার বাংলায়। উত্তরপ্রদেশ থেকে এক একটি ১০০ মিলিলিটার সিরাপের বোতল কিনে আনছে মাত্র ৫০-৬০ টাকা দরে। মুর্শিদাবাদের সিন্ডিকেট একসাথে ১৫০ টাকা দাম দিয়ে সেই সিরাপের বোতল কিনছে। সীমান্তের সিন্ডিকেট থেকে কারবারিরা সেই সিরাপ কিনছে প্রায় ৪০০ টাকা দরে। তারপর ক্যারিয়ার মারফত সিরাপের বোতল অল্প পরিমাণে পাচারকারীরা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা দামে। সেখানে বিপুল দামে এক এক বোতল সিরাপও বিক্রি হচ্ছে মাদক দ্রব্য হিসেবে। গাড়ি করে সিরাপ ঢুকছে মুর্শিদাবাদে। তারপর সেই সিরাপ স্টক করা হচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামে। সেখান থেকে ক্যারিয়ারদের হাত ঘুরে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সেখানে নেশার পানীয় হিসেবে ব্যবহার হয় এই কোডাইন মিশ্রিত কাশির সিরাপ।
বিএসএফের আধিকারিকরা বলেন, মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় ওপর বাংলায় সিরাপ খুব জনপ্রিয়। সাগরপাড়া ও রানিনগর সীমান্ত দিয়ে এখন সবথেকে বেশি সিরাপ চোরাচালান করার চেষ্টা করছে পাচারকারীরা। সীমান্তে বিএসএফ সক্রিয় রয়েছে। বাইরে থেকে মাল এনে গ্রামের মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। সেটাই সুযোগ বুঝে হাত বদলের চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীদের বলব, যাতে কেউ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপে পাচারে জড়িয়ে না পড়ে। আমরা সীমান্তে কড়া নজর রাখছি। এখন বাংলাদেশে সিরাপের চাহিদা বেশি। সুযোগ বুঝে দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে পাচারকারীরা। তাই অনেকেই টাকার লোভে এই অসৎ কাজে জড়িয়ে পড়ছে।’