• বাবার ক্যান্সার, নিজের একটি কিডনি নেই, সংসার সংগ্রামে পুতুল ভরসা সিভিকের
    বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: জন্ম থেকেই একটি কিডনি নেই। বাবা মারণ রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত। সংসারের হাল ধরতে কথা বলা পুতুলই ভরসা গুসকরা শহরের সিভিক ভলান্টিয়ারের। স্টেজে কথা বলা পুতুল ‘মিচকে’কে নিয়েই দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন সুরজিৎ পাত্র। চিকিৎসার খরচ জোগাতে ডিউটির পাশাপাশি রাতের পর রাত পুতুল নিয়ে ছুটতে হয় তাঁকে। 


    গুসকরা শহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডের চোঙদার পুকুরপাড়ার বাসিন্দা সুরজিৎ। আউশগ্রাম থানার গুসকরা পুলিস ফাঁড়িতে কাজ করেন। বাড়িতে ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা, মা ছাড়াও স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁর ভরা সংসার। সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসা ও নিজের ওষুধের খরচ সামাল দেওয়া যায় না। তাই ডিউটি সামলে কথা বলা পুতুল নিয়ে স্টেজ-শো করতে হয়। প্রতি রাতে দর্শকদের পুতুল নিয়ে মনোরঞ্জন করতে পারলেই হাজার দুয়েক টাকা করে পারিশ্রমিক মেলে। তাতে সংসার চালাতে কিছুটা সুবিধা হয়। 


    ২০১৮সালে সুরজিতের বাবা রমেশচন্দ্র পাত্রের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। রমেশবাবু রেলে চাকরি করতেন। অবসর নেওয়ার পর যা পেনশন পান তিনি সবটাই ক্যান্সারের চিকিৎসায় খরচ করতে হয়। এরপর ছন্দপতন ঘটে লকডাউনের সময়। সুরজিৎ জানতে পারেন জন্ম থেকেই তাঁর একটি কিডনি নেই। তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নেন। ধারাবাহিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় তাঁকে। মাসে প্রায় ১৫০০টাকার ওষুধ কিনতে হয়। তাঁর আর্থিক অনটনে কিছুটা মুশকিল আসান করে কথা বলা পুতুল। কথা বলা পুতুল নিয়ে কীভাবে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে হয় তা প্রাকটিস করে শিখে নেন তিনি। তারপরই তাঁর নাম দেওয়া পুতুল ‘মিচকে’কে নিয়ে রাতের পর রাত স্টেজ শো করেন। এক হাতে পুতুল আর অন্য হাতে মাইক ধরে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন। দর্শকরা খুশি হলেই তাঁর জীবনের আর্থিক অনটন ঘোচে। 


    সুরজিৎ বলেন, আমরা দু’ভাই আর এক বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট ভাইকে সিএসপি কাউন্টার করে দেওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যেই চার বছরের ছেলেরও চিকিৎসা করাতে হয়। তার উপর বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসা। পুতুল না থাকলে আমাদের সংসার কীভাবে চলত জানি না। সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করে যা বেতন পাই তাতে সংসার চালিয়ে বাবার চিকিৎসা সম্ভব নয়। এভাবে বাড়তি উপার্জন করি। সুরজিতের বাবা রমেশবাবু বলেন, ছেলে পুতুল নিয়ে যেভাবে পুরনো শিল্পকে আঁকড়ে ধরেছে তাতে আমরা খুশি। আমরা চাই ও আরও এগিয়ে যাক। 
  • Link to this news (বর্তমান)