নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পুলিসি ধরপাকড় কিছুটা কমতেই ফের শুরু হয়েছে চোরাই কয়লা কারবার। দুবরাজপুরের ঘাট গোপালপুর গ্রামই এখন চোরাই কয়লার প্রধান স্টক পয়েন্ট। সেখান থেকে বাইকে করে কয়লা জেলার সবদিকে পৌঁছে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছে বটে, কিন্তু কয়লা কারবারিরা থেমে নেই। বিভিন্ন রুটে বাইকে করে কয়লা নিয়ে গিয়ে নিমেষেই তা নির্দিষ্ট জায়গায় খালি করে দিচ্ছে। ওই গোপালপুর গ্রামই বেআইনি কয়লা কারবারের প্রধান ঘাঁটি। পুলিসের নজর এখন এই গ্রামের কয়লা কারবারিদের উপর।
জানা গিয়েছে, লোকপুর এলাকার বেসরকারি কয়লা খাদান থেকে প্রতিদিনই কয়লা চুরি হয়। স্থানীয় মহিলা, পুরুষ অনেকেই কয়লা চুরির কাজে যুক্ত। ঝুড়ি, বস্তাতে করে অল্প অল্প করে কয়লার চাঁই তারা নিজেদের বাড়িতে জমা করে। তবে মাঝেমধ্যে বিপদও ঘটে। কয়লা ধসে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। সেই কয়লাই নির্দিষ্ট কারবারিদের মারফৎ লোকপুরের জঙ্গলের মাঝে হাজির হয়। সেখান থেকে বাইক কিংবা মোষের গাড়িতে করে গ্রামের রাস্তা ধরে কোনও নির্দিষ্ট জায়গাতে আসে। আর সেইসব বেআইনি কয়লা নিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান গন্তব্য থাকে দুবরাজপুরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর অঞ্চলের ঘাট গোপালপুর গ্রাম। গ্রামের অনেকেই এই কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের ভেতরে কারও খামারে কিংবা বাড়ির উঠোনে কয়লা স্টক করে রাখা থাকে। সেগুলি বস্তায় ভরে বাইকে করে সুযোগ বুঝে অন্যত্র পাচার করা হয়। একেকজন বাইকে ৫ কুইন্টাল থেকে ১ টন পর্যন্ত কয়লা বয়ে নিয়ে যেতে পারে। সেখান থেকে বেশ কিছু রুটে চলে কয়লা পাচার। মূলত, সিউড়ি, চন্দ্রপুর, সদাইপুর থানা এলাকা তাদের পেরতে হয়। সিউড়ি ২ ব্লকের বেশ কয়েকটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে কয়লা কারবারিদের ইদানীং আস্তানা হয়েছে বলে পুলিসের একাংশের কাছে তথ্য মিলেছে। বাইক কয়লা কারবারিরা সেই গ্রামের ভেতর কোথাও গিয়ে কয়লা আনলোড করে দিয়ে আসছে বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকে পিক আপ ভ্যানে লোড হয়ে অন্যদিকে চলে যায় নিমেষেই। মাত্র কয়েকঘন্টার মধ্যেই কয়লা বাইক থেকে ভ্যানে লোড হয়ে যায়। গত শনিবার সকালেও সিউড়ি ২ ব্লকের পুরন্দরপুর বাজারের কাছে জেলা পুলিসের ডিইবি বিভাগ প্রায় ৬ টন কয়লা উদ্ধার করে। সেই কয়লাও এই রুট ধরে লোকপুর থেকে সিউড়ি থানার উপর দিকে লাভপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এছাড়াও আরও একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, রবিবার রাতে হাট গোবিন্দপুর গ্রামের ২টি কয়লা বোঝাই বাইকও পুলিস আটক করেছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ফের কয়লা কারবারিরা জেলাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে। এখন পুলিসের নজর রয়েছে দুবরাজপুরের ওই গ্রামের কয়েকজন কয়লা কারবারিদের দিকে। গ্রামের ভেতর থেকে কয়লা বোঝাই করে বাইক বেরনোর অপেক্ষায় পুলিস ওঁত পেতে থাকছে। যদিও গ্রামে গিয়ে অভিযান চালানোর ব্যাপারে পুলিসকে দু’বার ভাবতে হচ্ছে! ডিএসপি (ডিইবি) স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই গিয়ে কয়লা আটক করা হচ্ছে। এসপির নির্দেশমতো গোটা জেলাতেই কড়া নজরদারি চলছে। এছাড়াও জেলা পুলিসের এক অফিসার বলেন, ঝাড়খণ্ড থেকেও কয়লা এদিকে আসার ঘটনা আমরা দেখেছি। মূলত ইটভাটাগুলিতে কয়লা যায়। এই চোরাই কয়লার দাম কিছুটা কম হওয়ায় কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী এইভাবেই কয়লা নিয়ে থাকে।