নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ফুলবাড়ির পর নকশালবাড়ি। জমি কেলেঙ্কারিতে পুলিসের জালে আরও এক হেভিওয়েট তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। ধৃতের নাম আসরাফ আনসারি। তিনি নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের হাতিঘিষা অঞ্চল কমিটির সভাপতি। কলকাতার শহিদ দিবসের সভা থেকে ফেরার পর সোমবার বিকেলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ঘটনায় মহকুমার রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
নকশালবাড়ি হাতিঘিষা গ্রামে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের বাড়ি। রবিবার তিনি দলের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দেন। সোমবার সকালে সেখান থেকে ফিরে পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে কাজে যোগ দেন। বিকেলে বাড়ি ফেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে নকশালবাড়ি থানার পুলিস। আজ, মঙ্গলবার ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হবে বলে খবর।
পুলিস জানিয়েছে, নকশালবাড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর খাস জমি দখল নিয়ে একটি অভিযোগ করেছে। সেই মামলার তদন্তে নেমে কর্মাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জমির বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। তিনি জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জাল নথি বানিয়ে হাতিঘিষায় সরকারি জমি বিক্রি করা হয়েছে। সেই কর্মাধ্যক্ষই এবার গ্রেপ্তার।
ধৃত বলেন, সরকারি জমি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার অভিযোগ করেছি। যারজন্য পুলিস ও ভূমিদপ্তর চাপে রয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করছি। এজন্য আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। জমির দালাল তকমা দিয়ে পুলিস গ্রেপ্তার করল।
নকশালবাড়িতে জমির বেআইনি কারবার অনেকদিনের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযানে নেমে ভূমিদপ্তর ইতিমধ্যে সেবদেল্লা মৌজায় ৫.১০ এবং বড়ঝাড়ু মৌজায় ১.৪৬ একর জমি উদ্ধার করেছে। তাতে সরকারি বোর্ডও ঝুলিয়েছে। গত ১২ জুলাই হাতিঘিষা পঞ্চায়েতের ১৯টি প্লটে প্রায় ৪২.৪৫ একর সরকারি জমি দখলের হিসেব দিয়ে থানায় অভিযোগ করেন বিএলএলআরও। তাতে ১০ জনের নাম সহ অন্যান্যদের কথা উল্লেখ ছিল।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার কেষ্টপুরের বাসিন্দা অনিতারানি ছেত্রী ও সুব্রত সরকার নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতরা এলাকায় জমি মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। মামলায় পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হলেও এখন অনেকে অধরা। পুলিস জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে জমির কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ফুলবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয় দেবাশিস প্রামাণিক। পরে তার ডানহাত গৌতম গোস্বামীকে দিল্লি থেকে ধরে আনা হয়। ইতিমধ্যে ধৃতদের বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। এবার নকশালবাড়ির আসরাফ গ্রেপ্তার হল। জমির মামলায় শিলিগুড়ি ও আশপাশ এলাকায় শাসকদলের পরপর তিন হেভিওয়েট নেতা পাকড়াও হল। এতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। এবিষয়ে একাধিকবার ফোন করেও নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনন্দ ঘোষের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন স্যুইচ অফ ছিল। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভানেত্রী (সমতল) পাপিয়া ঘোষ বলেন, আইন আইনের পথে চলবে। (ধৃত পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসরাফ আনসারি। নিজস্ব চিত্র)