• ঘটনাস্থলের ছবি সংরক্ষণে জরুরি চিপ নেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের থানাগুলিতে
    বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৪
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম বিধি মানতে গিয়ে ফাঁপরে পড়েছে রাজ্য পুলিসের থানাগুলি। প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা আলাদা চিপ এবং পেনড্রাইভ জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে চিপভিত্তিক মোবাইল কেনার জন্য পুলিস সুপারের অফিসে আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। এর জন্য বরাদ্দ চেয়ে বিভিন্ন জেলার থেকে পুলিস ডিরেক্টরেটের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে বলে রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর। পাশাপাশি গভীর রাতে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল বা ল্যাপটপের হ্যাশভ্যালু করতে সাইবার থানাগুলিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞও না মেলায় অনেক ক্ষেত্রেই থমকে যাচ্ছে কাজ।


    মোদি সরকার রাজ্যগুলিকে পরিকাঠামো তৈরির সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ও ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম চালু করেছে। ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মে বলা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করা হলে তার পুরো ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। তল্লাশির ছবি ক্যামেরাবন্দি করবেন অফিসাররা। প্রতিটি ঘটনা তুলে রাখতে হবে আলাদা আলাদা চিপে। শুনানির সময় এটি তদন্তকারী অফিসার আদালতের সামনে তুলে ধরবেন। বিভিন্ন সময়ে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এসেছে। ওই কারণে নতুন আইনে ভিডিওগ্রাফির বিষয়টি আনা হয়েছে।


    নতুন আইনে আলাদা চিপ ব্যবহারের কথা বলা রয়েছে। কিন্তু তা কার্যকর করতেই গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সরকারি তরফে রাজ্য পুলিসের কোনও থানাতেই ঘটনাস্থলের ছবি রাখার জন্য আলাদা করে কোনও চিপ দেওয়া হয়নি।  এর জন্য কোনও টাকাও বরাদ্দ করেনি দিল্লি। রাজ্য পুলিসের বিভিন্ন থানায় একদিনে একাধিক ঘটনা ঘটে। কিন্তু তা ধরে রাখার জন্য চিপই নেই থানাগুলিতে। তাই স্থানীয় দোকান থেকে একটি বা দুটি চিপ কিনে এনে কাজ চালানো হচ্ছে। গভীর রাতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কোনও কিছু ঘটলে ছবি রাখার জন্য চিপ আনতে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরে।  নতুন মডেলের মোবাইলে চিপ ঢোকানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই এই মোবাইল ব্যবহার করে ছবি তুললে নিয়মমতো হ্যান্ডসেটটি দিয়ে দিতে হবে আদালতের কাছে। সেই কারণে চিপ ব্যবহারের সুবিধাযুক্ত পুরনো মডেলের মোবাইল কিনতে চাইছে থানাগুলি। প্রয়োজনে চিপযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহারে জোর দিতে চাইছে তারা। থানাগুলি চাইছে বেশি মাত্রায় চিপ মজুত করে রাখতে। কিন্তু এগুলি কিনতে গেলে যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হবে তা বহন করবে কে, তাই নিয়ে কেন্দ্র কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা দেয়নি। 


    হ্যাশভ্যালু করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। কারণ সব জেলায় এখনও সাইবার থানা তৈরি করা যায়নি। এই অবস্থায় অন্য জেলার সাইবার থানার বিশেষজ্ঞদের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। কিন্তু একসঙ্গে দুটি জেলায় পরপর ঘটনা ঘটলে তাঁরা কীভাবে এতগুলি হ্যাশভ্যালু করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবস্থা মোকাবিলায় তাই সাইবার থানা ও বিশেষজ্ঞ বৃদ্ধির পাশাপাশি সেগুলি যাতে ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয় থাকে, সেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে রাজ্য পুলিস সূত্রের খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)