• সাত বছরের বেশি সাজার প্রত্যেক মামলায় ফরেন্সিক পরীক্ষা নিয়ে চিন্তায় পুলিস
    বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন আইনে সাতবছরের বেশি সাজা রয়েছে এমন মামলায় ফরেন্সিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। আর এতেই  ঘুম ছুটেছে রাজ্য পুলিসের। রাতারাতি কীভাবে ফরেন্সিক ইউনিট ও বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ানা যাবে তাই নিয়ে রীতিমতো কপালে ভাঁজ পড়েছে কর্তাদের। আর একই জেলার একাধিক ঘটনা ঘটলে কোথায়, কখন ফরেন্সিক টিম হাজির হবে তাও ভাবাচ্ছে তাঁদের।


    রাজ্য পুলিসের থানার সংখ্যা পাঁচশোর উপরে। এক একটি থানায় গড়ে আট থকে দশটি কেস হয়। নতুন ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা আইন চালু হওয়ার পর বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কেসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আধিকারিকরা দেখছেন, সাতবছরের বেশি সাজা রয়েছে এমন কেসের সংখ্যা থাকছে দুই বা তিনটি করে। নতুন আইন অনুযায়ী এই সমস্ত কেসে ফরেন্সিক পরীক্ষা করানো অবশ্যিক হয়ে পড়েছে। রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর, এই মূহূর্তে ফরেন্সিকের তিনটি ইউনিট রয়েছে। কলকাতা লাগোয়া কিছু হলে বিশেষজ্ঞরা এখান থেকেই যান। দক্ষিণবঙ্গে অন্য জেলায় কিছু হলে দুর্গাপুর ও উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি থেকে টিম যায়। কিন্তু সেখানে সদস্য সংখ্যাও সীমিত। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশেষজ্ঞ নেই। অধিকাংশ পদ খালি হয়ে পড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় কীভাবে সমস্ত জায়গায় টিম পাঠানো যাবে ভেবে উঠতে পারছেন না আধিকারিকরা। সমস্যা আরও বাড়বে একই দিনে একাধিক জেলায় সাতবছরের বেশি সাজা রয়েছে এমন কেস বেশি সংখ্যায় নথিভুক্ত হলে। চার দেওয়ালের মধ্যে কিছু হলে ওই জায়গা ঘিরে বা তালাবন্ধ করে দিয়ে পরদিন ফরেন্সিক পরীক্ষা করানো যাবে। কিন্তু রাস্তায় বা খোলা জায়গায় ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই টিম পাঠাতে হবে নমুনা সংগ্রহের জন্য। না-হলে তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হযে যাবে। সেক্ষেত্রেই বেশি সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।


    এই অবস্থায় ফরেন্সিক ইউনিট বাড়ানো ছাড়া রাজ্যের সামনে আর কোনও রাস্তা নেই। নতুন ব্যবস্থা ঠিকভাবে চালু রাখতে গেলে সমস্ত জেলাতেই  ইউনিটের দরকার পড়বে। তার সঙ্গে দরকার পড়বে পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিশেষজ্ঞ। কিনতে হবে নমুনা সংগ্রহের অত্যাধুনিক কিট ও সামগ্রী। এই কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ  অর্থ লাগবে। এই টাকা কোথা থেকে আসবে তাই নিয়ে চিন্তা বেড়েছে রাজ্য প্রশাসনের। মোদি সরকার পরিকাঠামো তৈরির জন্য কানাকড়িও বরাদ্দ করেনি। এই অবস্থায় ফরেন্সিক ইউনিট তৈরিসহ বিভিন্ন কাজের জন্য দিল্লির কাছেই টাকা চাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। যদি তারা টাকা দিতে না চায় সেক্ষেত্রে রাজ্য  টানাটানির মধ্যে ধাপে ধাপে পরিকাঠামো তৈরি করে ফেলবে বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)