প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা-৪ নিয়ে ধন্দে রাজ্যের আধিকারিকরা
বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তালিকাভুক্ত ১১.৩৬ লক্ষ পরিষেবা গ্রাহকের জন্য বাড়ির অনুমোদন দিয়েও টাকা ছাড়েনি মোদি সরকার। সেই পর্বেই এবারের লোকসভা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে নতুন করে তিন কোটি বাড়ি তৈরির ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে মঙ্গলবারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আরও তিন কোটি বাড়ির ঘোষণা। এর ‘লাভ’ আদৌও বাংলার মানুষ পাবে কি না, সংশয়ে রয়েছে নবান্ন। এখানেই শেষ নয়। এদিনের বাজেটে ১৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার লাভই বা কতটা মিলবে বাংলায়, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। ধন্দে রাজ্যের আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ছ’হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ‘ভেটিং’ শেষ করেছে কেন্দ্র। যার মধ্যে ৭০০ কিলোমিটারের কাজ নিয়ে কেন্দ্রের আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে। তা সত্ত্বেও এই খাতের টাকা এখনও আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বক্তব্য, এটা একেবারেই জনবিরোধী বাজেট। শুধু মাত্র ওদের শরিক রাজ্যগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। আমাদের আবাসের টাকা তো দেয়ইনি। তার উপর রাস্তার টাকাও অকারণে আটকে রেখেছে। আর মানুষকে শুধু লক্ষ-কোটির গল্প শোনাচ্ছে। এতে মানুষ কোনও ভাবেই উপকৃত হবে না। পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার জবাব মানুষ লোকসভা ভোটে দিয়েছে, প্রয়োজনে আবার দেবে। আগে ওরা (কেন্দ্র) প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা-৩’এর টাকা দিক। সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের বরাদ্দও ছাড়ুক।
অন্যদিকে, শহুরে আবাস যোজনায় ১ কোটি বাড়ি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী। তাতে খরচ হবে ১০ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু কেন্দ্রের খরচ মাত্র ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি। বাকি টাকা দেবে রাজ্যগুলি। তাহলে কেন প্রকল্পের নাম হবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা? এই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘এটা আসলে, পরের ধনে পোদ্দারি, এরই নাম সর্দারি। সিংহভাগ টাকা দেবে রাজ্য। আর উনি (প্রধানমন্ত্রী) নিজের নামে তা প্রচার করবেন, তা কেন হবে? তাহলে ‘বাংলার বাড়ি’ নামটা ব্যবহার করলে জ্বালা ধরছে কেন!’