• পুজোর আগেই চালু হবে কালীঘাট স্কাইওয়াক
    বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগেই চালু হয়ে যাবে কালীঘাট স্কাইওয়াক। কাজ চলছে জোর কদমে। আধিকারিকদের দাবি, আগস্টে পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তার কিছুদিনের মধ্যেই খুলে যাবে সেটি। স্কাইওয়াকের মূল অংশের কাজ প্রায় শেষ। প্রবেশ এবং প্রস্থান পথের মাথায় চূড়া বা ডোম বসানোর কাজ চলছে। মোট পাঁচটি ডোম বসবে। পাশাপাশি চলছে চলমান সিঁড়ি ও লিফ্ট বসানোর কাজ।


    ৪৫০ মিটার দীর্ঘ স্কাইওয়াকের মূল কাঠামো তৈরি প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলা হয়েছে। অর্ধ গোলাকার লোহার কাঠামো আধুনিক পলিকার্বনেট শিটে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি প্রবেশ পথে চলমান সিঁড়ি বসানোর কাজ শেষ। এখন চলছে ডোম বানানোর কাজ। এক পুরকর্তা বলেন, এস পি মুখার্জি রোড, ফায়ার ব্রিগেড দিয়ে মহিম হালদার স্ট্রিট ধরে গুরুপদ হালদার পাড়া রোড, সদানন্দ রোড, কালী টেম্পল রোড সহ মোট পাঁচটি জায়গায় স্কাইওয়াকের ঢোকা ও বেরনোর গেটের মাথায় চূড়া বসানো হবে। সেই কাজ যথেষ্ট কঠিন। কারণ, পুরোটাই ওয়েল্ডিং বা ঝালাইয়ের কাজ। লোহা ও ফাইবার দিয়ে প্রথমে চূড়ার মূল কাঠামো বানানো হচ্ছে। তার উপর পলিকার্বনেট শিট দিয়ে ডিজাইন করা হবে। মন্দিরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই স্কাইওয়াকের এই চূড়াগুলি হবে। তাঁর আরও সংযোজন, দফায় দফায় বৃষ্টিতে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। মাঝে বিপত্তারিণী পুজোর জন্য চারদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কিন্তু, যাই হোক না কেন, এবার ডেডলাইন ‘মিস’ করা চলবে না। আগস্ট মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করে ফেলা হবে।


    পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়েছিল স্কাইওয়াকের কাজ। তখন বলা হয়েছিল, ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তারপর তিনবার পিছিয়েছে কাজ শেষের সময়সীমা। কাজের বিলম্ব হওয়ার গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পূর্তদপ্তর, পুরসভা মিলিয়ে জনা দশেক আধিকারিকের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। ঠিক হয়, এই কমিটি নিয়মিত স্কাইওয়াকের কাজ তদারকি করবে। নির্মাণকারী সংস্থাকে তারাই গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলেছিল। তা হয়নি। এবার আগস্টের মধ্যেই কাজ শেষ করে দেওয়া যাবে বলেই একপ্রকার নিশ্চিত আধিকারিকরা। ফলে পুজোর আগেই খুলে যাবে স্কাইওয়াক। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কথায়, স্কাইওয়াক তৈরি করতে গিয়ে প্রথম থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। হকার এবং ব্যবসায়ীদের সরাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পুর প্রশাসনকে। ভূগর্ভস্থ একাধিক পাইপলাইন সরাতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তাছাড়া, বার বার ডেডলাইন ‘মিস’ হওয়ায় নির্মাণকারী সংস্থার গড়িমসিকেও দায়ী করছেন তাঁরা। ফলে প্রকল্পের খরচও বেড়ে গিয়েছে। ৭৭ কোটি টাকা বাজেট থাকলেও খরচ ৯০ কোটি ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)